যুদ্ধে আকাশপথে অস্থিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ১২:৩২ এএম
যুদ্ধে আকাশপথে অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী আরও ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে গত কয়েক দিনে বাংলাদেশ থেকে মোট ১৪৭টি ফ্লাইট বাতিল হলো।

গতকাল বাতিলের খতিয়ান

সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে প্রথম দফায় ২২টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে আরও ১৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে- কাতারের চারটি, আমিরাতের চারটি, গালফ এয়ারের চারটি, ফ্লাই দুবাইয়ের চারটি, কুয়েতের দুটি, জাজিরা এয়ারলাইন্সের চারটি, সব মিলিয়ে ৩৮টি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা

বিমানবন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও বড় ধরনের হামলা কমে এসেছে। মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর বিস্তৃত আকারে নতুন করে বড় হামলার খবর না থাকায় কিছু রুট সীমিত আকারে চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে কয়েকটি এয়ারলাইনস।

তবে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতারের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা কাটেনি। দুই থেকে তিনটি দেশ এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে ফ্লাইট চালু করেনি।

আকাশসীমা বন্ধের প্রভাব

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিরঅবনতি হলে একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোকে বিকল্প রুট খুঁজতে হচ্ছে অথবা সাময়িকভাবে বাতিল করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যগামী অধিকাংশ ফ্লাইট দুবাই, আবুধাবী ও শারজাহ এয়ারফিল্ড ব্যবহার করে। এসব এয়ারফিল্ড আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।

ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও প্রভাব

ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

গত দুই দিনে ঢাকায় ১০২টি এবং শাহ আমানতে ২৫টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি মধ্যপ্রাচ্যগামী ডিপার্চার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ডিপার্চার ও একটি অ্যারাইভাল ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ার আরাবিয়ার একটি ডিপার্চার ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে।

প্রবাসীদের দুশ্চিন্তা

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লক্ষাধিক বাংলাদেশি প্রবাসীর জন্য এই পরিস্থিতি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই ছুটি কাটাতে দেশে এসেছিলেন, কেউ কেউ নতুন কর্মচুক্তি নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে টিকিট রিশিডিউল, অতিরিক্ত খরচ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরে দেখা গেছে, যাত্রীদের কেউ টিকিট পরিবর্তনের লাইনে, কেউ আবার এয়ারলাইনসের কাউন্টারে বিকল্প তারিখ খুঁজছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের আকাশপথে স্পষ্ট প্রভাব ফেলেছে। ৩৮টি ফ্লাইট বাতিলসহ কয়েক দিনে মোট ১৪৭টি ফ্লাইট বাতিল হওয়া প্রমাণ করে- সংঘাতের ঢেউ কত দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে যায়। যদিও ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতার ইঙ্গিত মিলছে, তবুও আকাশসীমা পুরোপুরি খুলে না দেয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। প্রবাসী যাত্রী, এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সবাই এখন অপেক্ষায়, কখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আবার স্থিতিশীল হবে এবং ঢাকার রানওয়ে থেকে নিয়মিতভাবে উড়বে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান।