বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদাহরণ স্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের নিজের কক্ষে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির তাপমাত্রা কমিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দেশের সকল সরকারি অফিস, আদালত, মন্ত্রণালয়, বেসরকারি অফিস, বিপণিবিতান, শপিংমল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই উদ্যোগ নেন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কক্ষ (২০১নং) থেকে অর্ধেক লাইট বন্ধ করা হয় এবং এসির বিদ্যুৎ প্রবাহ ২৫.১ শতাংশ পর্যন্ত নামিয়ে আনা হয়। এটি করার মাধ্যমে কক্ষের বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কক্ষের সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভা বৈঠক চলাকালীন সময়ে একই ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে বৈঠকে প্রবেশ করার সাথে সাথে কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ ও এসির তাপমাত্রা কমানো হয়। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় ও মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে নিজেই সাশ্রয়ী ব্যবস্থার উদাহরণ স্থাপন করেছেন। এটি শুধু একটি চিহ্নিত উদ্যোগ নয়, বরং দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি খাতকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।”
সচিবালয়ের ১ নং ভবনে প্রধানমন্ত্রীর দফতর, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর অধীনে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতর অবস্থান করছে। প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব কক্ষে সাশ্রয়ী উদ্যোগ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সচিবালয়ের সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে তাদের কক্ষে অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ করা হয় এবং এসিরতাপমাত্রা উপযুক্ত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সচিবালয়ের প্রতিটি কক্ষে প্রতিদিনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের রিপোর্ট নেওয়া হবে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটি শুধু সচিবালয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না; দেশের সরকারি দপ্তরগুলোর জন্যও একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রভাব
প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান, আদালত, মন্ত্রণালয় ও দফতরের পাশাপাশি বেসরকারি অফিস, শপিংমল, হোটেল ও বিপণিবিতানকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে দিনের বেলায় লাইট ব্যবহার কমানো, জানালা ও পর্দার মাধ্যমে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করা, এসি ও ফ্যানের সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করা এসব ব্যবস্থা কার্যকর করা যাবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবস্থার প্রয়োগ হলে প্রতি ইউনিটে বিদ্যুতের ব্যয় কমবে এবং দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা ও গ্রিডের চাপও হ্রাস পাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি অফিসের মতো বড় ব্যবহারে যদি সাশ্রয়ী উদ্যোগ সফল হয়, তবে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া
সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। একজন সিনিয়র সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদাহরণ স্থাপন করেছেন। এতে আমাদেরও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পায়। আমরা আমাদের কক্ষে অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারি।”
অন্যদিকে, সচিবালয়ের জুনিয়র কর্মকর্তা ও স্টাফরা বলছেন, “এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্যও শিক্ষণীয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি, নেতা নিজেই প্রতিটি ছোট ছোট ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী। এটি একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন শুরু করতে পারে।”
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা দিন দিন বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে গ্রিডে চাপ বৃদ্ধি পায়। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে অফিস, হোটেল ও বেসরকারি খাতে কম খরচে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অফিস, হোটেল, বিপণিবিতান ও সচিবালয়ে যদি সাশ্রয়ী ব্যবস্থার সফল প্রয়োগ হয়, তবে এটি দেশের বিদ্যুৎ ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের উদাহরণকে দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনুসরণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করুন, অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ করুন, এসির মাত্রা উপযুক্ত রাখুন। এটি শুধু অর্থ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে না, বরং আমাদের পরিবেশের ওপরও প্রভাব কমাবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগ কেবল সচিবালয় বা সরকারের কর্মকর্তাদের জন্য নয়; দেশের সকল অফিস, বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, হোটেল, শপিংমল ও বাসা-বাড়িতে মানুষকে এই ব্যবস্থার অনুকরণ করতে হবে। সচিবালয়ে এই উদ্যোগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সচেতনতা বৃদ্ধি এর জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নেরও নির্দেশ দিয়েছেন।
এতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য মাসিক বিদ্যুৎ খরচের রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ হ্রাসের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের উন্নয়নে সচিবালয় থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগকে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও অনুসরণ করতে পারে।
এ উদ্যোগ দেশীয় বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ন্ত্রণে, খরচ কমাতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সর্বোপরি, প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ শুধুই প্রশাসনিক নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেরও বার্তা বহন করছে। সাধারণ মানুষও যদি অপ্রয়োজনীয় লাইট বন্ধ, এসির ব্যবহারে সচেতন হয়, তবে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে।
অফিস ও বাড়িতে সাশ্রয়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ, অর্থ সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষা সম্ভব। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে এই উদ্যোগ সময়োপযোগী হবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।
রাষ্ট্রীয়ভাবে জাঁকজমকপূর্ণ ইফতারের আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর
দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগের বছরের মতো বড় পরিসরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ইফতার আয়োজন না করে সীমিত পরিসরে মাত্র দুটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক অবস্থা ও বাস্তবতা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী এ বছর রাষ্ট্রীয় আয়োজন সংক্ষিপ্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে পরিকল্পিত বেশ কয়েকটি ইফতার অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন