নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মাহেন্দ্রক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এই অধিবেশনকে ঘিরে দেশবাসীর প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রথম অধিবেশনে বেশ কিছু ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ নেয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই সংসদ হবে জনপ্রত্যাশা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তস্নাত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘অধিবেশন বসার পর আমরা জুলাই সনদে যা কিছু সম্মত হয়েছি, সেই অঙ্গীকারগুলোকে ধারণ করব।’
সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ ভবনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবারের (আজ) অধিবেশনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি হবে নতুন দিগন্তের সূচনা। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেবেন এবং অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন। এরপর সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন যে, ১৫ মার্চ পর্যন্ত অধিবেশন চলার পর একটি সাময়িক বিরতি আসতে পারে। তবে এই কয়েক দিনের মধ্যেই জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের মূল বিষয়গুলো সংসদে আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সংসদের অভিভাবক অর্থাৎ স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার পদে কারাবসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা থাকলেও বিষয়টি এখনো অপ্রকাশিত রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ণ দায়িত্ব সংসদীয় দল আমাদের নেতা তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। তিনিই নাম প্রস্তাব করবেন।’
সংসদীয় গণতন্ত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব দেয়া হলেও তাতে এখনো ঐকমত্য আসেনি। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, সরকারের দেয়া ডেপুটি স্পিকার পদের প্রস্তাব তারা আপাতত নাকচ করে দিয়েছে। এই রাজনৈতিক দরকষাকষি আজকের অধিবেশনে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘জুলাই সনদ’-এর কথা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছিল, ত্রয়োদশ সংসদ সেই অঙ্গীকারগুলোকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শহীদদের স্বপ্ন এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে আইনি কাঠামোতে রূপ দেয়াই এই সংসদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য হতে যাচ্ছে।
আজ বেলা ১১টায় যখন সংসদ অধিবেশন শুরু হবে, তখন পুরো জাতির নজর থাকবে সংসদ নেতার স্বাগত বক্তব্যের দিকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী যদি ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’গুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন