সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণে খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৫, ১১:১৮ পিএম
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণে খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন নির্ধারণের খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন। প্রস্তাবে গত ১০ বছরের ব্যবধানে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে ৯০ থেকে ৯৭ শতাংশ।

সোমবার এই খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে জাতীয় বেতন কমিশন।

প্রস্তাবে গ্রেড-১ এর কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৪ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়াও গ্রেড-২ এ ১ লাখ ২৭ হাজার ৪২৬ টাকা, গ্রেড-৩ এ ১ লাখ ৯ হাজার ৮৪ টাকা, গ্রেড-৪ এ ৯৬ হাজার ৫৩৪ টাকা, গ্রেড-৫ এ ৮৩ হাজার ২০ টাকা, গ্রেড-৬ এ ৬৮ হাজার ৫৩৯ টাকা, গ্রেড-৭ এ ৫৫ হাজার ৯৯০ টাকা, গ্রেড-৮ এ ৪৪ হাজার ৪০৬ টাকা, গ্রেড-৯ এ ৪২ হাজার ৪৭৫ টাকা, গ্রেড-১০ এ ৩০ হাজার ৮৯১ টাকা মূল বেতনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে গ্রেড-১১ তে ২৪ হাজার ১৩৪ টাকা, গ্রেড-১২ তে ২১ হাজার ৮১৭ টাকা, গ্রেড-১৩ তে ২১ হাজার ২৩৮ টাকা, গ্রেড-১৪ তে ১৯ হাজার ৬৯৩ টাকা, গ্রেড-১৫ তে ১৮ হাজার ৭২৮ টাকা, গ্রেড-১৬ তে ১৭ হাজার ৯৫৫, গ্রেড-১৭ তে ১৭ হাজার ৩৭৬ টাকা, গ্রেড-১৮ তে ১৬ হাজার ৯৯০ টাকা, গ্রেড-১৯ তে ১৬ হাজার ৪৪১ টাকা এবং গ্রেড-২০ এর কর্মচারীদের জন্য ১৫ হাজার ৯২৮ টাকা মূল বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় বেতন কমিশন।

কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক বেতনের বড় ধরণের বৃদ্ধি হয়নি। বর্তমান খসড়া প্রস্তাব তার ঘাটতি পূরণ করে, কর্মচারীদের আয়ের পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।

বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীর বেতন-ভাতা বেশ কয়েক বছর স্থিতিশীল ছিল; কিন্তু মাথাপিছু মূল্যস্ফীতি, জীবনের ব্যয়বৃদ্ধি ও কর্ম-মোটিভেশন সংকটে পরিপ্রেক্ষিতে বেতন পুনর্মূল্যায়নের দাবি দিন দিন বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় বেতন কমিশন আজকের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বেতনবৃদ্ধির এই খসড়া প্রস্তাব কর্মচারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোবল তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে সরকারি বাজেট-ব্যয় ও করসঞ্চয়ের ওপর ক্ষেত্রে এটি নতুন চাপ তৈরি করবে।

অর্থনীতিবিদরা মন্তব্য করছেন, সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক বেতনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সরকারি প্রকল্প ও সেবাক্ষেত্রে বাজেট-সংস্থাপন ও দক্ষতা বাড়ানোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া জরুরি। অন্যথায় বেতন বৃদ্ধিও সুফল বয়ে আনতে পারে না।

অন্যদিকে, সরকারি এক কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, বেতন স্ল্যাব বাড়ানো ইতিবাচক। তবে আন্দোলন বা দাবির মুখে নয়, পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে বাস্তবায়ন হওয়া একান্ত জরুরি।

খসড়া প্রস্তাব সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এখন বিষয়টি নির্দিষ্ট বাজেট অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলী সংশোধনের দিকে থাকবে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কখন থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে।

কিন্তু বাস্তবতায় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছ, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে বাজেটের সামঞ্জস্য প্রয়োজন। কর্মক্ষমতা ও সেবা মান বাড়ানোর সঙ্গে বেতনবৃদ্ধিকে সংযুক্ত করতে হবে।

সকল গ্রেডে বেতনের পার্থক্য প্রবাসী ও অবসরের পরিসরে কতটা প্রভাব ফেলবে তা বিশ্লেষণ করতে হবে।

এক দশকের পর সরকারি কর্মচারীদের বেতনের বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখন ঘনিয়ে এসেছে। আজকের খসড়া প্রস্তাব যদি অনুমোদিত হয়, তাহলে এটা শুধু আয়ের পরিমাণ নয় সরকারি চাকরিতে একটি নতুন মনোবল ও প্রত্যাশা সৃষ্টি করতে পারে। তবে সঠিক বাস্তবায়ন ও বাজেট-সাপোর্ট ছাড়া বেতন বাড়ানো নিজেরাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

নতুন বেতন পরিসরের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারী সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া, কার্যকারিতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব হয়তো আগামী মাসগুলিতে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

ইএইচ