শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ, আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক  প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ১২:৩০ পিএম
শাহবাগ ছাড়ল ইনকিলাব মঞ্চ, আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঢাকায় আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগের অবরোধ তুলে নিয়ে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকে শাহবাগ এলাকায় থাকা ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা সংগঠনের নির্দেশনায় ধীরে ধীরে অবস্থান সরিয়ে নেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারেক রহমান গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে এলাকা ত্যাগ করলে তারা পুনরায় শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করবেন।

ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসুর নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা শাহবাগ মোড়ে দাঁড়িয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক একটি ঘটনার কারণে আমরা সাময়িকভাবে শাহবাগ ছেড়ে দিচ্ছি। এটি কোনোভাবেই আমাদের আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চ রাজপথ ছাড়বে না।

শাহবাগ ছাড়ার সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের একটি অংশকে রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করতেও দেখা যায়। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা জানান, জনদুর্ভোগ কমানো এবং জনসম্পৃক্ত আন্দোলনের বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান নেওয়ার পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এর মধ্যে ছিল ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘বিচার চাই, বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইনকিলাব মঞ্চ শুক্রবার সারারাত শাহবাগে অবস্থান করেছিল। রাতভর সেখানে নারী, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। গভীর রাতেও শাহবাগে আন্দোলনকারীদের স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা। শনিবার সকালে আন্দোলনের কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এদিকে তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে শাহবাগ, জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং ওসমান হাদির কবরস্থানের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত ব্যারিকেড ও চেকপোস্ট।

শাহবাগ এলাকায় সকাল থেকেই বিএনপির সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েক শ নেতা-কর্মীকে মিছিল করতে দেখা যায়। তারা তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এসব মিছিল কয়েকবার শাহবাগ মোড় অতিক্রম করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সভা-সমাবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত রয়েছে অতিরিক্ত ফোর্স।

ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলছেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত হত্যাকাণ্ড নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার জন্য বড় প্রশ্ন। তাদের দাবি, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে এবং দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে রাজধানীর রাজনীতিতে বাড়তি উত্তাপ ছড়িয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি, অন্যদিকে বিচার দাবিতে চলমান আন্দোলন এই দুইয়ের সংযোগস্থলে শাহবাগ এখনো রয়েছে দেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সে দিকেই এখন নজর রাজধানীবাসীর।