জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি, ইসি কর্মীসহ গ্রেপ্তার ২

শাহিনুর রহমান প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০২:১২ পিএম
জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি, ইসি কর্মীসহ গ্রেপ্তার ২
ছবি: শাহিনুর রহমান, আমার সংবাদ

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি এবং নাগরিকদের গোপনীয় তথ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতি মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক কর্মচারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আলামিন (৩৯)। 

জসীম উদ্দিন খান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এনআইডি সংশোধন, ভুয়া তথ্য সংযোজন এবং নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য অবৈধভাবে বিক্রি করে আসছিলেন। প্রতি মাসে তারা কোটি টাকারও বেশি আয় করতেন অবৈধ এই কাজে। সিআইডি আরও জানায়, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ আভিযানিক দল জানায়, প্রথমে গত ১৪ জানুয়ারি রাত ১০টা ৩০ মিনিটে মো. আলামিন (৩৯) নামে এক ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে রাজধানীর আগারগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. হাবীবুল্লাহ (৪১), গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মো. আলামিন তার আইডি ও পাসওয়ার্ড মো. হাবীবুল্লাহকে দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা দেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য যাচাই ও বিক্রি করতেন। প্রতিটি তথ্যের বিনিময়ে নেওয়া হতো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। সিআইডির হিসাব অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার তথ্য দেখা হয়েছিল, আর ৩০ দিনে এটি দাঁড়ায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮। এর মাধ্যমে মো. হাবীবুল্লাহ প্রায় ১১ কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছে।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফার ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এনআইডির মূল সার্ভারে প্রবেশ করতেন এবং তা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।

মামলার তদন্তের পাশাপাশি সিআইডি অবৈধ অর্থের উৎস, চক্রের অন্যান্য সদস্য এবং অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ ও রিমান্ডের আবেদনসহ অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম চলমান।

এএন