দশম গ্রেডে উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য শতভাগ কোটা বহাল রাখা এবং ওই পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার দুপুরে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে বের হয়ে আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের সামনে সড়কে বিক্ষোভ করেন। পরে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, দশম গ্রেডে আমরা এক শতাংশ ছাড় দিতেও রাজি নই। বিএসসি ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মধ্যকার পেশাগত সমস্যা নিরসনের নামে আন্তঃমন্ত্রণালয় সুপারিশ কমিটি উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে।
তৃতীয় বর্ষের পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী হৃদয় আহমেদ বলেন, সরকার গঠিত আট সদস্যের কমিটিতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মাত্র একজন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। এটি পরিকল্পিতভাবেই আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। আমরা এই সুপারিশ কমিটি মানি না।
ইসিতে স্মারকলিপি দিতে আসা ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক ডিপ্লোমাধারীর কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা দূর করতেই দশম গ্রেড তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে নতুন করে বিএসসি প্রকৌশলীদের অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।
স্মারকলিপিতে তারা একাধিক দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো-
১. দেশের সব প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ আসনে ভর্তি নিশ্চিত করা।
২. তিন বছর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নবম গ্রেডে আবেদন করার সুযোগ পুনর্বহাল করা।
৩. প্রকৌশল খাতসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের দশম গ্রেডের পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের আবেদনের অধিকার নিশ্চিত করা, যেখানে ডিগ্রিধারীরা নবম গ্রেডে আবেদন করতে পারেন।
৪. সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পদে কোনো প্রকৌশলীর সাধারণ ক্যাডারে প্রবেশ বন্ধ করা।
৫. ডিপ্লোমা ও ডিগ্রি প্রকৌশলীদের ক্রেডিট আওয়ার সমান হওয়ায় পরিচয় ব্যবহারে সমতা নিশ্চিত করা।
৬. ক্রেডিট আওয়ার বিবেচনায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ প্রদান।
৭. আইডিইবি কর্তৃক ঘোষিত সব যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি দশম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগের যে সুপারিশ করেছে, তা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচাল করার ষড়যন্ত্রমূলক উদ্যোগ।
তারা এ সুপারিশ বাতিল করে কারিগরি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, প্রকৌশল খাতে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসন এবং জাতীয় স্বার্থে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
উল্লেখ্য, একই দাবিতে শনিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার কাছেও স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন আন্দোলনরত পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন