সম্প্রতি নড়াইল পৌর কবরস্থান সংস্কার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সংস্কারকে কবর ভাঙা কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে বিতর্ক তুলছেন কেউ কেউ। এ ঘটনায় দৈনিক আমার সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কবরস্থান সংস্কার সম্পর্কে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নড়াইল পৌরসভার প্রথম নারী মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা। সাক্ষাৎকার দানকালে তিনি বলেন, কবরস্থান সংস্কার বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটা দেশেই হয়ে থাকে।
কবরস্থানের কবর ভাঙা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা রাতারাতি তিনি করেন নাই। এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং তিনি এ বিষয়ে জনগণ ও ধর্মীয় নেতাদের থেকে ধর্মীয় বিধি-নিষেধ সম্পর্কে কয়েক দফায় পরামর্শ নিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, প্রথম যখন এই কবরস্থানটিতে পৌরসভার মানুষ কবর দেওয়া শুরু করে তখন পৌরসভার জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১০ হাজারের মতো। সেখানে বর্তমানে নড়াইল পৌরসভার জনসংখ্যা লক্ষাধিক। এছাড়াও এখন কবরস্থানে কবরের ঘনত্ব এত বেশি যে নতুন জায়গা খুঁড়ে কবর দেওয়ার দুষ্কর। কবর খুড়লে বেরিয়ে আসে পূর্বে কবর দেওয়া মানুষদের হাড় ও মাথায় খুলি। এছাড়াও ঢালু জমি হওয়ায় জলাবদ্ধতা এখন এই কবরস্থানের নিয়মিত চিত্রে রূপ নিয়েছে। যে কারণে কবর সংস্কার অতি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
রাতের আঁধারে কবর গুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কবর সংস্কারের পূর্বে কয়েক দফায় পৌরসভার মানুষদের উদ্দেশে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। যাতে তারা যেন নিজেদের আত্মীয়ের কবরের বাঁধাই করা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেয়। সেটা করতে তারা ব্যর্থ হওয়ায় বাধ্য হয়েই পৌরসভাকে এসব কবর অপসারণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে সেটা রাতের আঁধারে নয়। যে বা যারা এ ধরণের বানোয়াট কথার মাধ্যমে নড়াইলের সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে পুঁজি করে পৌরসভা এবং মেয়রের বিরুদ্ধে উসকানি দিচ্ছে তারা আসলে আমার এসকল উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করতে চায়। এর আগেও কয়েকবার তারা আমাকে নানাভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেছে।
সর্বশেষ করে কবর সংস্কার করা হয়েছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র মহাদয় বলেন, এই তথ্য সঠিক ভাবে কেউই দিতে পারে না। তবে বিগত ৪০-৫০ বছর এর মধ্যে কবর সংস্কার এর কাজ করা হয়নি। কেবল পূর্বের মেয়র দ্বারা কবরস্থানের সীমানা ও দেয়াল সংক্রান্ত কাজ করা হয়েছে।
কবরস্থানের সংস্কারে নাগরিক উন্নয়ন কমিটির বাঁধা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু লোক নিজেরা আইনের বাইরে যেয়ে এই কমিটি খুলে কবরস্থান সংস্কারের দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের এমন সিদ্ধান্তেই যদি এই বিষয়টি পরিচালিত হয়, তাহলে তো আর আলাদাভাবে উন্নয়নকাজে পৌরসভাকে দরকার পড়ে না,
তিনি আরো বলেন, তিনি আইনের লোক, জনপ্রতিনিধি। সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন করতে উন্নয়নের জন্যই কবরস্থান সংস্কারের সিদ্ধান্ত, নিজের স্বার্থের জন্য নয়। তিনি বলেন, জনগণ আমার সাথেই আছে। গুটিকয়েক লোক আমার উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্থ করতেই ভুল তথ্য রটাচ্ছে। আমার নিজের স্বামীকেও ওই কবরস্থানেই দাফন করা হয়েছে। কাজেই আমার বিরুদ্ধে উসকানি দিয়ে কোনো লাভ হবে না।
আরএস
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন