ইটাখলা-গাজীপুর সড়ক

সেকান্দরদী-চলনা মোড়ে মৃত্যুফাঁদ

তারেক পাঠান, পলাশ (নরসিংদী) প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৩, ০৫:৩৯ পিএম
সেকান্দরদী-চলনা মোড়ে মৃত্যুফাঁদ

* তিনবছরে  নিহত অর্ধশতাধিক

নরসিংদীতে দুই লেনের ইটাখলা-আজমতপুর-গাজীপুর সড়ক। এই সড়কে ইটাখলা থেকে পলাশ উপজেলা অংশের দুইটি  ভয়ঙ্কর মোড় সেকান্দরদীমোড় ও কাশেম মার্কেট সংলগ্ন চলনামোড়ের বিপজ্জনক বাঁক হয়ে যাওয়া যায় আজমতপুর-গাজীপুরে। ব্যস্ততম চলনা ও সেকান্দরদী মোড় থেকে ইটাখলা পাঁচ কিলোমিটার  অংশে মহাসড়কের মতই গাড়ির চাপ থাকে। ভয়ঙ্কর দুই মোড়ের কাছাকাছি রয়েছে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুই মাধ্যমিক বিদ্যালয়। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতের পাশাপাশি শত শত কোমলমতী শিক্ষার্থী  ও পথচারী রাস্তাপারাপাড় হতে গিয়ে প্রায় সময়ই নিহত হচ্ছেন। সেকান্দরদী মোড় ও চলনামোড়ের বিপজ্জনক দুইটি বাঁক যেন এক একটি মরণফাঁদ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির দু’পাশে সরকারের অধিগ্রহণকৃত ৭০-৮০ ফুট জায়গা থাকার সত্ত্বেও বিপজ্জনক দুই বাঁকে রোড ডিভাইডার, স্পিড ব্রেকার, যাত্রী চলাচলের জন্য সার্ভিস রোড না থাকায় প্রায়ই ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এতে অনেকে নিহত হচ্ছেন, আবার অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে দুর্বিষহ জীবন যাপন পার করছেন। আহত ব্যক্তিরা বয়ে বেড়াচ্ছেন দুর্ঘটনার দুঃসহ স্মৃতি।

একাধিক যাত্রী জানান, এ সড়কে চলাচলের সময় আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। সবসময় আতঙ্কে থাকি কখন কি হয়ে যায়। এ সড়কে যাত্রী পথচারী ও শিক্ষার্থীদের কাছে ভয়ের ও আতঙ্কের আরেক নাম সেকান্দরদী মোড় ও  চলনামোড়। গত তিন বছরে এ সড়কে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাতিক ছাড়িয়ে গেছে। যদিও পুলিশের কাছে দশ থেকে বারজন নিহত হয়েছে বলে রেকর্ড রয়েছে। বাকি হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য পুলিশের কাছে নেই।

এ বিষয়ে গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সেকান্দরদী এ.এম উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি জাকির হোসেন চৌধুরী জানান, সেকান্দরদী মোড়টির এক পাশ থেকে অন্য পাশ কিছুই দেখা যায় না। প্রতিদিনই শত-শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তাপারাপাড় হচ্ছেন। প্রায় সময়ই এখানে  দুর্ঘটনা ঘটে হতাহতে সংখ্যা বাড়ছে। এ ব্যাপারে ইউএনও স্যারকে অবগত করলে তিনি ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।

চরসিন্দুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন রতন জানান, কাশেম মার্কেট সংলগ্ন চলনা বাঁকটি  আমার ইউনিয়নের শেষ সীমানায়।  যেহেতু  দুই পাশে সওজের অধিগ্রহণকৃত জমি রয়েছে সেহেতু বাঁকটি সোজা কিংবা রোড ডিভাইডারের ব্যবস্থা করলে দুর্ঘটনা ও হতাহতে সংখ্যা অনেকটা কমে যাবে।

পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান, সরেজমিন পরিদর্শন করে জেলা মাসিক সমন্বয় সভায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দূর্ঘটনা রোধে বিপজ্জনক বাঁকগুলো সোজা কিংবা রোড ডিভাইডারের ব্যবস্থা করলে দূর্ঘটনা অনেকটা কমে যাবে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন।

নরসিংদী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম জানান, চালকদের অদক্ষতা, প্রতিযোগিতা অসাবধানতা, দ্রুতগতিতে ওভারটেক করার জন্য এখানে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে ওই মোড়ে একটি অবৈধ স্থাপনা ছিল উচ্ছেদ করা হয়েছে। সর্বশেষ একটি গাছ ছিল কাটানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারপরে ও কেন বার-বার দুর্ঘটনা ঘটছে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এআরএস