গাছের ডাল কাটতে গিয়ে হত্যা

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৩, ০৯:১২ পিএম
গাছের ডাল কাটতে গিয়ে হত্যা

ঘরের পাশেই চাচা দুলাল চন্দ্র বাউলের আম গাছ। গাছের পাতা ঘরের চালে পড়ে চাল নষ্ট হচ্ছে ভাতিজা সুবাস চন্দ্র বাউলের। গাছের ডাল কাটতে স্থানীয় মেম্বারের ও স্বরনাপন্ন হন সুবাস। তারপরও ডাল কাটেনি চাচা। এরপর নিজেই বাড়ির পাশের মোস্তফা নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে দুইটা ডাল কাটাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় দুলালের চন্দ্র সুবাসকে ধাক্কা দেয়। এরপর সুবাস চন্দ্র বাউল (৫৫) পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়। ঘটনার পর দুলাল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের পূর্ব লাউতলী এলাকার বাউল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সুবাস বাউল মৃত রুপচান বাউলের ছেলে।

এ ঘটনায় সংবাদ পেয়ে থানার তদন্ত (ওসি) প্রদীপ মন্ডল সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ থানায় নিয়ে আসেন। এসময় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ঘাতক দুলালের স্ত্রী পুরবী রানী অধিকারি ও দুলালের শশুর নকুল চন্দ্র দাসকে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে মৃত সুবাসের বড় ভাই রঞ্জিত চন্দ্র বলেন, দুলাল আমার ছোট ভাইকে মেরে ফেলেছে। দুলাল জানতো আমার ভাই হাটের রোগী। এরপরও সে আমার ভাইকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং ঘটনাস্থলেই আমার ভাই মারা যায়। আমি দুলালের বিচার চাই।

মৃত সুবাসের ছেলের বউ শিউলি বলেন, আমার স্বামী সৌদি আরব থাকে। দুলাল আমার শশুরকে মামার জন্য হাতে দা নিয়ে তেড়ে আসে এবং ধাক্কা দিলে তিনি উড়ে গিয়ে ঘরের বেড়ার সাথে পড়ে গিয়ে সাথে সাথে মারা যান। আমারা এই দুলালের বিচার চাই।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ গাজী জানান, সুবাসের ঘরের চালের উপরের দুলালের আমা গাছের পাতা পরে চাল নষ্ট হচ্ছে বলে আমাকে বেশ কয়েকবার জানিয়েছে। আমি দুলাল চন্দ্রকে বলেছি ডাল কেটে দিতে। দুলাল ডাল না কাটায় সুবাস নিজে দুটি ডাল কাটে। এরপর দুলাল এস সুবাসকে ধাক্কা দিলে সুবাস পড়ে গিয়ে মারা যায়। আমি ঘটনা শুনেই ঘটনাস্থলে এসে থমথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম জানান, আমরা ঘটানাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করছি। এ ঘটনায় এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  অভিযুক্ত দুলাল পলাতক রয়েছে। দুলালের স্ত্রী ও শ্বশুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এআরএস