নৌ-যান চলাচল বন্ধ

ঝালকাঠিতে ৫৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত

ঝালকাঠি প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২৩, ০৬:৫০ পিএম
ঝালকাঠিতে ৫৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ‘হামুন’ ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ডিসি অফিসের সুগন্ধা সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ৭টি কন্ট্রোলরুম, ৫৯ সাইক্লোন সেল্টার, ৩৭টি মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিসের ৩টি উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রয়েছে।

এছাড়া নগদ ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা, ৩৫০ মেট্রিকটন ত্রাণের চাল বিতরণের জন্য মজুদ আছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি মজুদ আছে। সরকারি দপ্তরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা সাধারণ জনগণকে সচেতন করার জন্য কাজ করবেন, যাতে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসে এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।

এছাড়া স্কাউট, রেড ক্রিসেন্টের সমন্বয়ে তরুণ-তরুণীর স্বেচ্ছাসেবকের টিম তৈরি করা হয়েছে। জেলার সব উপজেলায় খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। আরও জানানো হয়, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে যেগুলো ঝালকাঠি সদরসহ তিনটি উপজেলার যে কোনো প্রান্তে চিকিৎসা সহায়তা দেবে।

এদিকে জেলার উপকূলীয় নদ-নদীতে সব ধরনের নৌ-যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ঝালকাঠি টার্মিনালে এমভি ফারহান-৭লঞ্চ নোঙ্গর করা থাকলেও তা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে না বলে জানিয়েছে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন জানান, পায়রা সমুদ্র বন্দরে সাত নম্বর বিপদ সংকেত ও বরিশাল নদী বন্দরে দুই নম্বর সতর্ক সংকেত রয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারণে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটলে এ নির্দেশনার কোনো পরিবর্তন ঘটবে না।

জেলার বিষখালি নদীর তীরে অবস্থিত রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের মঠবাড়ি, আমুয়া, শৌলজালিয়া ইউনিয়নে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না থাকায় ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী অতিরিক্ত পানিতে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এইচআর