শীতের আগমন

গাছির মুখে রসালো হাসি

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২৩, ০৩:৩৮ পিএম
গাছির মুখে রসালো হাসি

রাতের কুয়াশাছন্ন আকাশ আর শেষ রাতে শীতের আভাস জানান দিচ্ছে প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা।

শীতের এই আগমনী বার্তায় বাগেরহাটের শরণখোলার গাছিরা ব্যস্ত খেজুরের রস আহরণের (সংগ্রহ) জন্য খেজুর গাছ তৈরি করতে প্রস্তুত।

শীতের মৌসুম শুরু হতে না হতেই আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস আহরণে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গাছিরা গাছ প্রস্তুত করতে শুরু করেছেন। যারা খেজুরের রস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে গাছ কাটায় পারদর্শী স্থানীয় ভাষায় তাদের গাছি বলা হয়।
আজ মঙ্গলবার সকালে সাউথখালী ইউনিয়নের একটি গ্রামে খেজুর বাগানে গাছিরা হাত দা নিয়ে ও কোমরের সাথে গাছে দড়ি বেঁধে নিপুণ হাতে গাছ চাঁচা-ছোলার কাজ শুরু করেছেন। শীত মৌসুম এলেই সর্বত্র শীত উদযাপনের নতুন আয়োজন শুরু হয়। খেজুরের রস আহরণ ও গুড় তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এ এলাকার গাছিরা। তাদের মুখে ফুটে ওঠে রসালো হাসি।

উপজেলার খোন্তাকাটা, রায়েন্দা, ধানসাগর ইউনিয়নের গাছি হেমায়েত মোল্লা, আবুল হাওলাদার, আমিন চৌকিদার বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের এলাকায় খেজুর গাছ অনেক কমে গেছে। আমরা কৃষি কাজের অবসর সময়ে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের কাজ করে থাকি। এ রস থেকে নিজ বাড়িতেই আমাদের নারীরা গুড় তৈরির কাজে সহযোগিতা করে। তাই বাড়তি ঝামেলা আমাদের পোহাতে হয় না।

সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন (রাজিব) বলেন, শীতের দিন মানেই গ্রামাঞ্চলে খেজুর রস ও নোলেন গুড়ের মৌ-মৌ গন্ধ। শীতের সকালে খেজুরের তাজা রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে বোঝানো যায় না। আর খেজুর রসের পিঠা এবং পায়েস তা খুবই মজাদার। এ কারণে শীত মৌসুমের শুরুতেই গ্রামাঞ্চলে খেজুর রসের ক্ষীর, পায়েস ও পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। প্রতিদিনই কোনো না কোকোন বাড়িতে খেজুর রসের তৈরি খাদ্যের আয়োজন চলে। শীতের সকাল বাড়ির উঠানে বসে সূর্যের তাপ নিতে নিতে খেজুরের মিষ্টি রস যে পান করেছে, তার স্বাদ কোনদিনও সে ভুলতে পারবে না। শুধু খেজুরের রসই নয়, এর থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু পাটালি ও গুড়। খেজুরের গুড় বাঙালির সংস্কৃতির একটি অঙ্গ। নোলেন গুড় ছাড়া আমাদের শীতকালীন উৎসব ভাবাই যায়।

এআরএস