ফেনীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়পুর তুলাতুলির চর ও ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষি আবাদ বিঘ্ন ছাড়াও নদীর গতিপথও পরিবর্তন হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পাউবো ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে যেকোনো সময় জেলার মুহুরি সেচ প্রকল্পের আওতায় থাকা শুভপুর ইউনিয়নের তুলাতুলির চর এলাকায় স্কিমের কাছ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে সেচ-স্কীমের পাইপ লাইন ও মোটরের তার চুরি করে।
এর মধ্যে স্কীম ম্যানেজার শাহাদাতের এরিয়ার ৩৫০ মিটার পাইপ লাইন, মো. বাবলু মিয়ার এরিয়ার ১০০ মিটার পাইপ লাইন, ঘোপাল ইউনিয়নের লাঙ্গলমোড়া এলাকায় স্কীম ম্যানেজার গিয়াসউদ্দিনের এরিয়ার ৭শ মিটার পাইপ লাইন আবাদি জমি থেকে বালু উত্তোলন করায় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
এছাড়া ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকৃঞ্জরা এলাকায় বালু উত্তোলনের ফলে প্রায় ৩৫০ মিটার পাইপসহ কৃষি, সেচ প্রকল্পের ক্ষতি হয়। তৎসংলগ্ন আবাদি জমিতে পানি না দিতেও নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু মুসা রকি জানান, ফেনী জেলার মুহুরি সেচ প্রকল্পে সেচ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ছাগলনাইয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সেচ ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে। এতে সেচ প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়।
ছাগলনাইয়া থানার ওসি হাসান ইমাম জানান, মামলার পর থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারি অবৈধ এ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারা অবৈধভাবে বালু তোলা ও মাটি কাটা বন্ধে কাউকে ছাড় দেয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন।
এআরএস

আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন