লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ভুট্টা তুলতে না যাওয়ায় জয়নাল (৩০) নামের এক দিনমজুরকে লাঠি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কৃষক মোস্তফার (৩৫) বিরুদ্ধে। আহত ওই দিন মজুর বর্তমানে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের উত্তর জাওরানী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এছাড়া এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দিনমজুরের বাবা মোতালেব।
অভিযুক্ত মোস্তফা ওরফে মোস্ত উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের উত্তর জাওরানী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক। এবং ভুক্তভোগী দিনমজুর জয়নাল একই গ্রামের মোতালেবের ছেলে।
শনিবার দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা জয়নাল ব্যথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। আর তার পাশেই বসে অপলক চোখে চেয়ে ছেলেকে দেখছেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা মোতালেব।
এ সময় জয়নালের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মোস্তফার সাথে কাজের কথা হলেও আমি যে ওইদিন তার কাজ করবো সেরকম কোন কথা হয়নি। আমি শরীফ ভাইয়ের ভুট্টা তুলতেছিলাম। আর সে সময় হঠাৎই মোস্তফা এসে আমার মাথায় আঘাত করে। আমি আর কিছু বলতে পারি না। চোখ খুলে দেখি আমি হাসপাতালে।
এ সময় কথা হয় জয়নালের বাবা মোতালেবের সাথে। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাবা আমরা গরীব মানুষ। কামলা দিয়ে খাই। আমাদের কেউ নাই। মোস্তফা আমার ছেলের মাথা ফাটাই দিয়েছে। কী অপরাধ আমার ছেলের, কেন তাকে এভাবে মারলো বলেই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন বাবা মোতালেব।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলে সুস্থ হলে আমি থানায় অভিযোগ দিবো। এখন আমার কেউ নেই। তাই আমি একা কিছু করতে পারছি না।
এ বিষয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক শরীফ বলেন, জয়নাল আমার ভুট্টা খেতে কাজ করছিল। এ সময় হঠাৎ ওই মোস্তফা এসে একটি লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় আর রক্ত পরা শুরু হয়। পরে আমিসহ কয়েকজন আহত জয়নালকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোস্তফা বলেন, সে আমার ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার কথা ছিল। আমার ভুট্টা না তুলে অনেকেই ভুট্টা তুলতে যায়। ওর জন্য আমি গরুর মাংস ও স্যালাইন আনছি। এরপরেও সে আসেনি। তাই রাগের মাথায় দুই তিনটা মাইর দিয়েছি।
ভেলাগুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মন্ডল বলেন, বিষয়টি শুনেছি। আমি ওই এলাকার ইউপি সদস্যকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি।
হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনারুল হক বলেন, আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি আছে। তার মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন