মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের গঙ্গারামখালী চরপাড়া মাঠসংলগ্ন গড়াই নদীতে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গত কয়েক দিনে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কৃষিজমি, বসতভিটা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতীরের বিস্তীর্ণ এলাকা ধসে পড়ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে কলাবাগান, আবাদি জমি এবং জনবসতির নিকটবর্তী অংশ। বিভিন্ন স্থানে মাটিতে ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি সেখ বলেন, “বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই নদীতে পানি বাড়ছে। গত দুই দিনে ভাঙন অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই নদী জমি কেটে নিচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।”
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই গড়াই নদীর এই অংশে ভাঙন সমস্যা বিদ্যমান। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ কিংবা টেকসই কোনো ভাঙনরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মাওলা বলেন, “নদীভাঙন বর্তমানে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ফসলি জমির পাশাপাশি জনবসতিরও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।” স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি কেবল কয়েকটি পরিবারের ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং পুরো এলাকার অর্থনীতি ও অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। তাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান সুজন বলেন, “শ্রীপুর উপজেলার তিনটি এবং মোহাম্মদপুর উপজেলার সাতটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে জরুরি কাজ বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি ভাঙনরোধ পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। অন্যথায় গড়াই নদীর অব্যাহত ভাঙনে দারিয়াপুরের বিস্তীর্ণ জনপদ ও কৃষিজমি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন