ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মরণফাঁদ আতঙ্কে পরিণত হয়েছে রাস্তার উপর থাকা পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি।
শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পৌর এলাকার দাসপাড়া সড়ক, হাসপাতাল সড়ক, বাংলাবাজার (পাকিস্তানবাজার) সড়কের মধ্যেই এ খুঁটিগুলো চোখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগে রাস্তা কম প্রশস্ত থাকায় অপরিকল্পিতভাবেই খুঁটিগুলো বসায় পল্লী বিদ্যুৎ। এতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে।
পৌরসভার হিসাবে মতে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ইতিমধ্যে সংস্কারের পাশাপাশি ১৬, ১৮, ২০ বা ২২ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করা হচ্ছে। পৌরসভা এলাকার রাস্তাগুলোয় ১৬৭টির মতো পল্লী বিদ্যুতের অপরিকল্পিত ও ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটির দেখা মিলেছে।
তেমনি এক রাস্তা হচ্ছে দাগনভূঞা দাসপাড়া সড়ক। বিদ্যালয়, মাদরাসা, সরকারি অফিস, নার্সারি ও বিভিন্ন এনজিওর অফিস থাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে এ সড়ক দিয়ে।
তাছাড়া অনেকসময় আঞ্চলিক সড়কে যানজট থাকায় অনেকেই বিকল্প রাস্তা হিসেবে এটিকে ব্যবহার করে। কিন্তু রাস্তার মধ্যে খুঁটি থাকায় অনেকসময় গাড়িগুলো দুর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে।
দাসপাড়ার বাসিন্দা পার্বণ দাস বলেন, আমাদের রাস্তাটি অনেক দিন পর প্রশস্তসহ সংস্কার করা হচ্ছে, কিন্তু রাস্তার মধ্যে খুঁটিগুলো থাকায় সৌন্দর্য হারানোর পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
আরেক বাসিন্দা পলাশ দাস বলেন, কিছুদিন আগেই এ রাস্তায় একটি অটোরিকশা দুমড়ে মুচড়ে যায় খুঁটি থাকার কারণে এতে চালক ও যাত্রী উভয়েই গুরুতর আহত হন। শীঘ্রই এগুলো রাস্তা থেকে অপসারণ করা না হলে বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থেকে যাবে।
দাগনভূঞা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, আমাদের অনেক ছাত্রী পায়ে হেঁটে ও রিকশায় এ রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করে অনেকসময় দুইটা অটোরিকশা রাস্তায় চললে খুঁটি থাকা স্থানে তারা ঝুঁকির মুখে পড়ে যায়। আমরা তাদের সচেতন করছি। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে খুঁটিগুলো অপসারণের বিকল্প নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা পৌর মেয়র ওমর ফারুক খান জানান, পল্লী বিদ্যুতের অনেকগুলো ত্রুটির মধ্যে মারাত্মক ত্রুটি হলো কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা না করেই তাদের ইঞ্জিনিয়াররা যত্রতত্র খুঁটি বসায়। সেগুলো আবার উঠাতে হল কর্তৃপক্ষকে টাকা জমা দিয়ে উঠাতে হয়। যেকোনো রাস্তা হয়তো পৌরসভা, এলজিইডি বা সওজ তাদের সাথে সমন্বয় না করে কাজ করায় এমন হয় বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, আমি ডিজিএমের সাথে কথা বলেছি তিনি আমাকে বলেছেন টাকা জমা দিলে খুঁটি অপসারণ করা হবে কিন্তু আমি অপসারণ করার পক্ষে না। খুঁটির জন্য এ রাস্তায় যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে পল্লী বিদ্যুৎ দায়ী থাকবে আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।
রাস্তায় খুঁটির বিষয়ে জানতে পল্লী বিদ্যুৎ দাগনভূঞা উপজেলার ডেপুটি জোনাল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম এর মোবাইলে কল দিয়ে পাওয়া যায়নি।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন