ফেনীতে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার-৫, ভিকটিম উদ্ধার

ফেনী জেলা প্রতিনিধি: প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৪, ০৪:৪৭ পিএম
ফেনীতে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার-৫, ভিকটিম উদ্ধার

ফেনীতে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় চক্রের মূলহোতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার ও অপহৃত ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (০৪ জুলাই) এঘটনায় ভিকটিমের পিতা মো. বেলালের পূর্বে দায়েরকৃত এজাহারের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে জেলার দাগনভূঞা থানায় ৩৬৫/৩৮৫/৩৪ দ:বি: মামলা রজু করা হয়।

এর আগে বুধবার (০৩ জুলাই)  রাতে দাগনভূঞা পৌর এলাকার  সাতবাড়িয়া জামে মসজিদের বিপরীত পাশে অবস্থিত লাতু মিয়ার কলোনীতে অভিযান পরিচালনা করে অপহৃত  রায়হান প্রকাশ রানা(২২)কে উদ্ধার এবং অপহরণ পূর্বক মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের এ ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চকলাকোপার গ্রামের মো: বেলালের ছেলে মো. রায়হান প্রকাশ রানা(২২) চট্টগ্রামে একটি  মাছের ট্রলারে কাজ করে। ঈদ-উল-আযহার ছুটি শেষে গত ০২ জুলাই সকালে সে  নিজ বাড়ি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করে।

যাত্রাপথে তার বন্ধু বুদ্দি(২৫) মোবাইলে কল দিয়ে একসঙ্গে চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা বলে।এপর্যায়ে রায়হানের বন্ধু বুদ্দি মোবাইলে তাকে ভাত খাওয়ার জন্য দাগনভূঞা জিরো পয়েন্টস্থ বড় মসজিদের সামনে নামতে বলে।

বন্ধুর কথামতো রায়হান ওই স্থানে এসে পৌঁছলে বুদ্ধি তাকে   দাগনভূঞা পৌরসভার সাতবাড়িয়া মসজিদের বিপরীত পাশে তাহার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তার সহযোগীসহ রায়হানকে মারধর করত আটক করিয়া বিবাদী ফখরুল ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল হতে রায়হানের আত্মীয় বিবি শাহেনাজকে ফোন করে ভিকটিমকে উদ্ধারে  ৬ লক্ষ  টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

একপর্যায়ে বিবাদীগণ ভিকটিমের পিতাকে মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দাগনভূঞা জিরো পয়েন্টে আসতে বলে। ভিকটিমের পিতার নিকট আত্মীয় শাহনাজকে ০৩ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে দাগনভূঞা উপজেলার  জিরো পয়েন্ট এলাকায় এসে উক্ত সেখানে টহলরত পুলিশকে বিষয়টি জানায়।

এরপর পুলিশের কৌশল অবলম্বনের একপর্যায়ে বিবাদী আল জাবের মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার জন্য দাগনভূঞা জিরো পয়েন্টে এলে পুলিশ তাহাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি মতে দাগনভূঞা পৌরসভার সাতবাড়িয়া জামে মসজিদের বিপরীত পাশে লাতু মিয়ার কলোনীস্থ বুদ্দির টিনসেড ভাড়া বাসায় অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে।

এসময়  পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিবাদী বুদ্দির বাসা থেকে ঘটনার মূল হোতা  নুরুল ইসলাম লাতুসহ  জুয়েল, ৩। জনি, রুবেল, আশ্রাফ, রায়হান, বুদ্দিগণ দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাহাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

দাগনভূঞা থানার ওসি মো আবুল হাসেম এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন,একই দুপুরের দিকে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে  মাধ্যমে কারাগারে হয়েছে।

বিআরইউ