খুনি হাসিনা সরকার আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে জেলে পাঠিয়েছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিতে রাজী না হওয়ায় বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে আমাকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল।
নেত্রকোণা জেলার কৃতি সন্তান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় বিএনপি সাবেক প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুজ্জামান বাবর মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি সবকটি মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়ে নিজ জেলায় আগমন উপলক্ষ্যে রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঐতিহাসিক মোক্তারপাড়া মাঠে নেত্রকোণা জেলা বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। জালিম খুনি হাসিনা সরকার আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, ফাঁসির দণ্ড দিয়েছে, অকথ্য অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আমাকে দমিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি আপস করিনি। জালিম সরকারের কাছে মাথা নত করিনি। আমি সর্বদা সত্যের পথে ছিলাম, আছি, থাকবো, ইনশাল্লাহ্।
নেত্রকোণাসহ দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন পাওয়ায় এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি সবকটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছি। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমি আমার জীবন বাজি রাখতে রাজি আছি। যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছি। তিনি বলেন, ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। দেশে এখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যাতে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা বাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
নেত্রকোণা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এর সভাপতিত্বে সদস্য সচিব ড. মো. রফিকুল ইসলাম হিলালীর সঞ্চালনায় গণসংবর্ধনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহীন,নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নূরু, জেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক, জেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার, জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মজিবুর রহমান খান, তাজেজুল ইসলাম ফারাস সুজাত, এস এম মনিরুজ্জামান দুদু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের সুজা, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. সালাহ্উদ্দিন খান মিল্কীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আরএস
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন