বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মানিকদিপা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধা আলেফা বিবি দীর্ঘ দুই যুগ ধরে স্বামীহীন জীবনযাপন করছেন।
৯ সন্তানের জননী এই বৃদ্ধা শারীরিক অসুস্থতা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। থাকার জন্য নিজের কোনো ঘর নেই, নাতির বাড়ির বারান্দায় একটি ঝুপড়ির মধ্যে রাত যাপন করেন তিনি।
স্বামীর মৃত্যুর আগে সংসারের প্রয়োজনে স্বল্প সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন, ফলে বর্তমানে কোনো ধরনের সরকারি ভাতাও পান না তিনি।
সরকারি বিভিন্ন সুবিধাভোগী কার্ড থাকলেও এখনো কোনো ভাতা পাননি আলেফা বিবি। দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেও কোনো ফল পাননি তিনি।
বৃদ্ধার বড় ছেলে কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, ‘আমাদের ঘরবাড়ি ছাড়া যা জমিজমা ছিল, বাবা বেঁচে থাকতেই বিক্রি করে দিয়েছেন। মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় আছেন। সরকারি বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য অনেকবার আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। কয়েক বছর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (টিএনও) এসে হুইলচেয়ার দিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু ভাতার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।’
এ বিষয়ে আড়িয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বৃদ্ধা আলেফার বিধবা ভাতার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। যদি কেউ আমার ছেলের কাছে আবেদন করে থাকে, সেটাও আমি জানি না। তার ছেলে আবু নিজেই ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করবে বলে বলে বেড়ায়, তাই আমার কিছু করার নেই।’
এ বিষয়ে জানতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, ‘আলেফা বিবির নামে কোনো সুবিধাভোগী কার্ড নেই, তবে গত বছর অনলাইনে আবেদন করা হয়েছিল। তিনি অনেক আগেই ভাতা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার নাম তালিকায় পাঠানো হয়নি। আমরা এখন বিষয়টি জানলাম, এবং দ্রুতই তার জন্য সুবিধাভোগী ভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।’
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন