খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ রোগীরা প্রতিনিয়ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ্ত রায় দীপনের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এক বিশেষ অভিযান।
অভিযানে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি সহ তিনজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—অবৈধভাবে টিকিট বিক্রির দায়ে খাইরুল (৫২), যাকে ৫ হাজার টাকা এবং কমিশনের বিনিময়ে ডায়াগনস্টিক ও ফার্মেসিতে রোগী পাঠানোর অভিযোগে মো. সেলিম হোসেন (৩৫), যাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান প্রসঙ্গে ইউএনও প্রদীপ্ত রায় দীপন বলেন, “একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দুঃখজনকভাবে কোনো চিকিৎসক অভিযানে আমাদের সহায়তা করেননি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবির হোসেন সোহাগ জানান, “আমি জরুরি মিটিংয়ে কুষ্টিয়ায় ছিলাম। একজন চিকিৎসককে জানানো হলেও জরুরি রোগী থাকায় তিনি অংশ নিতে পারেননি। তবে প্রশাসন ও স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয়ে আমরা দালালচক্রের বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যাব।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দালালরা হাসপাতালের মূল ফটকে দাঁড়িয়ে রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসিতে পাঠিয়ে কমিশন নেন। অনেকে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে ডাক্তারদের দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও দামি ওষুধ লিখিয়ে রোগীদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, “হাসপাতালের একজন রাঁধুনিও দালালের ভূমিকা পালন করছে। এসব অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযান চলমান থাকবে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন