অভয়নগরে মতুয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ৩

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৫, ০৫:২১ পিএম
অভয়নগরে মতুয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ৩

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ডহরমশিয়াহাটী গ্রামে মতুয়া সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, যেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৭ মে) রাতে ভুক্তভোগী কল্পনা বিশ্বাস অভয়নগর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তিনি নিহত তরিকুল ইসলাম হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বাড়িসহ আশপাশের ১৯টি পরিবারের ওপর চালানো বর্বর হামলার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

২২ মে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওয়াপাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম খুন হওয়ার পরপরই সুন্দলী ইউনিয়নের বেড়েধা পাড়ায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। দেশীয় অস্ত্র ও পেট্রোল নিয়ে দুর্বৃত্তরা কল্পনা বিশ্বাসের বাড়িসহ আরও ১৮টি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। লুট করে নিয়ে যায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র।

কল্পনা বিশ্বাস জানান, তাঁর বাড়িতে হামলায় প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন—শংকর বিশ্বাস, মহিতোষ বিশ্বাস, দিলীপ বিশ্বাস, বিষ্ণু বিশ্বাস, প্রতাপ বিশ্বাস, প্রনব বিশ্বাসসহ মোট ১৯টি পরিবার। সবাই একই মতুয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীম বলেন, ঘটনার পর কল্পনা বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এজাহারে অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। তারা হলো—ইমন হোসেন (৩০), রিফাতুল ইসলাম রাতুল (২৩) ও সাজ্জাদ হোসেন (২৭)।

তিনি আরও বলেন, তরিকুল হত্যা মামলায় ফিরোজ খান, সাগর বিশ্বাস, দিনেশ ও সুমন নামের চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উভয় মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।

গত ২২ মে বিকেলে পিন্টু বিশ্বাসের বাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলায় তরিকুল ইসলাম নিহত হন। জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই রাতেই উত্তেজিত জনতা পিন্টুর বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা পরবর্তীতে মতুয়া সম্প্রদায়ের ওপর একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।

সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে হামলার শিকার পরিবারগুলো এখনও চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

বিআরইউ