নির্মাণের মাস না পেরুতেই ধসে পড়ল সড়ক, যান চলাচল বন্ধ

জহুরুল ইসলাম, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৫, ০৩:৪৮ পিএম
নির্মাণের মাস না পেরুতেই ধসে পড়ল সড়ক, যান চলাচল বন্ধ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সদ্য নির্মিত একটি সড়ক নির্মাণের মাস না পেরোতেই ব্যাপকভাবে ধসে পড়েছে। গাইড ওয়াল ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ৬০৭ মিটার দীর্ঘ সড়কের অন্তত ৬০টি স্থানে ভাঙন ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ সড়ক ধসে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সড়কের নিচ থেকে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন, রোলার দিয়ে সঠিকভাবে মাটি না চাপানো, সাইড শোল্ডার না রাখা, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ করায় এত অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ধসে পড়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এলজিইডির অর্থায়নে "সিরাজগঞ্জ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প"-এর আওতায় ২০২৩–২৪ অর্থবছরে শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের নারায়নাদহ জামাত খানের বাড়ি থেকে শহীদ মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত ৬০৭ মিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণের জন্য ৯৮ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চুক্তিমূল্য ছিল ৯৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬২ টাকা। কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোহাম্মদ আলী এন্টারপ্রাইজ। পরবর্তীতে উপ-ঠিকাদার হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করেন পান্না নামে এক ব্যক্তি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি বর্তমানে একেবারেই চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। রিকশা ও ভ্যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। শিডিউল অনুযায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সড়কের দুই পাশে থাকা শোল্ডারে ২–৩ ফুট মাটি দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। এছাড়া পাশের মাটি কেটে রাস্তার কাজে ব্যবহার, এজিং না থাকা এবং নিম্নমানের ইট-বালু ব্যবহারের কারণে সড়ক ও গাইড ওয়াল ভেঙে গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন এবং বাসিন্দা আব্দুল রশিদ, হযরত আলী, ইয়াকুব আলী, শফিকুল রহমান মোল্লা ও ভ্যানচালক সাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করায় তারা একাধিকবার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি। বরং এলজিইডির কর্মকর্তারা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলেন, “কাজ করলেও বিল তুলবো, না করলেও বিল তুলবো।” অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাদের চাঁদাবাজির মামলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তারা আরও জানান, ১ নম্বর ইটের পরিবর্তে ২ নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ২৫০ মিটার গাইড ওয়াল এখনো নির্মাণ করা হয়নি, আর যেটুকু হয়েছে তার বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে ধসে গেছে। দুই পাশে ২ ফুট মাটি দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি এক ফুটও। সড়কে বালু ও মাটি ফেলার পর রোলার দিয়ে সঠিকভাবে না চাপানোয় একদিকে কাজ চলতে চলতেই অন্যদিক থেকে রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে একাধিক তদারকি কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকলেও তারা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী এ.এইচ.এম কামরুল হাসান রনী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “দরপত্র অনুযায়ী কাজ বুঝে নেব। রাস্তা ঠিক করতে যা করার, তা ঠিকাদারকেই করতে হবে। দরপত্রের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।” তবে নিম্নমানের উপকরণ এবং সাইড শোল্ডার সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, দরপত্র অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন, সঠিক ডিজাইন অনুসরণ এবং সন্তোষজনক ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট ছাড়া বিল পরিশোধ না করার নিয়ম থাকলেও, বাস্তবে এসব নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের।

ইএইচ