মাগুরা জেলা যেখানে কয়েক বছর আগে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি দৈনন্দিন জীবনকে আতঙ্কিত করত। আজ সেখানে ফিরে এসেছে শান্তি ও নিরাপত্তা।
পাঁচ মাস ধরে মাগুরা আর্মি ক্যাম্প পরিচালিত ৬২টির বেশি অভিযান ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সেনাবাহিনী জেলাবাসীর আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।
সাম্প্রতিক অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিদেশি অস্ত্রসহ বায়েজিদ বোস্তামী (২৪) ও রফিকুল ইসলাম (৩২)।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অভিযান ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র সামগ্রীতে রয়েছে, বিদেশি পিস্তল ৩টি, ওয়ান-শুটার গান ১৭টি, রিভলভার ১টি, পাইপ গান ৩টি, আধুনিক এয়ারগান ৩টি, হাতবোমা ৮টি, কার্তুজ ১২টি, গুলি ৬৫টি, অতিরিক্ত ব্যারেল ও ম্যাগাজিন ৩টি, ৩২৪টি এয়ারগান অ্যামুনিশন, ১টি পুলিশের লুট হওয়া টিয়ারশেল হাতিয়ার অন্যান্য সামগ্রী দা ৩১টি, রামদা ৩২টি, চাইনিজ কুড়াল ১৩টি, চাপাতি ১৭টি, ছুরি ১৫টি, ঢাল ৪১টি।
মাদক ও অর্থ ইয়াবা ৬৭০ পিস, ফেন্সিডিল ৪১৫ বোতল, গাঁজা ৩ কেজি ৬৯২ গ্রাম, হেরোইন ১০ গ্রাম, মরফিন ৪টি, বিদেশি মদ ১ বোতল, নগদ ৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। অন্যান্য ছিনতাইকৃত মোবাইল ২৭টি, মোবাইল ফোন ৭৫টি, ল্যাপটপ ২টি, মোটরসাইকেল ৫টি, অবৈধ কাঠসহ দুটি ভ্যান।
মাগুরার বিভিন্ন থানার তথ্য অনুযায়ী পাঁচ মাসে মামলা ও অপরাধের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
মাগুরা সদরে মার্চ-৫২, জুন-৩২টি, শ্রীপুর থানায় মার্চে ২৮টি, জুনে ১৮টি, শালিখা থানায় মার্চ-১২টি, জুনে ৩টি, মোহাম্মদপুর থানায় মার্চে ২০টি, জুনে ২৪টি, হাইওয়ে থানায় মার্চ-৩টি, জুনে ২টি। মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর মার্চ-৩১টি, জুনে ২১টি।
মাগুরায় সেনারা শুধু অভিযানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। গুরুত্বপূর্ণ মানবিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে। রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট। ঈদে প্রধান সড়কে নিরাপত্তা টহল ও চেকপোস্ট। শিশু আসিয়া হত্যা মামলার তদন্তে সহায়তা। অসুস্থ প্রসূতির জন্য রক্তদান ও চিকিৎসা সহায়তা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রেরণামূলক ক্লাস এবং সেনাবাহিনীতে যোগদানের উৎসাহ।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার ও নিরাপত্তা সহায়তা। অনিবন্ধিত প্রাইভেট ক্লিনিকে সরকারি ওষুধ বিক্রি বন্ধ। গ্রাম্য বিবাদ ও সংঘর্ষ থামাতে উদ্যোগ। ২৪ ঘণ্টার অনলাইন হেল্প ডেস্ক চালু করে অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা।
ব্যবসায়ী মো. বকুল মুন্সি বলেন, ‘আগে সন্ধ্যার পর আতঙ্কে দোকান বন্ধ করতাম। এখন সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল দেয়, রাতেও নির্ভয়ে ব্যবসা করি।’
রোকসানা আক্তার, মাগুরা সদর উপজেলার এক বাসিন্দা জানান, ‘সেনারা শুধু অপরাধ দমন করেননি, আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে খাবার, চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন। আমরা এখন নিরাপদ বোধ করি।’
মো. শহীদুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, ‘পাঁচ মাসের মধ্যে এই ধরনের কার্যক্রম আগে দেখা যায়নি। সেনাবাহিনী আমাদের এলাকায় আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।’
মাগুরা ক্যাম্প কমান্ডার বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশে বাঁচার অধিকার দিতে বদ্ধপরিকর। আমরা শুধু অপরাধ দমন নয়,জনগণের পাশে মানবিকভাবেও দাঁড়াই।
মাগুরার মানুষ আজ প্রমাণ দেখছেন, সেনাবাহিনী কেবল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখছে না, মানবিক সহায়তা এবং স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ করে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ মাসে অর্জিত সাফল্য স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে নজিরবিহীন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন