টানা পাঁচ দিন ধরে দাবদাহে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা। ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে তাপমাত্রা। তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫৮ শতাংশ। সকাল থেকেই প্রখর রোদে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক এবং মাঠে কাজ করা কৃষিশ্রমিকরা। তীব্র রোদ থেকে বাঁচতে কেউ ছাতা ব্যবহার করছেন, আবার কেউ গাছের ছায়ায় কিছুটা স্বস্তি খুঁজছেন।
চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারের ভ্যানচালক আতিয়ার রহমান বলেন, সকাল থেকেই প্রচণ্ড রোদে রাস্তায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সংসারের টানে কাজ করতে হচ্ছে। যাত্রীও কমে যাওয়ায় আয়ও কমেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কৃষক টিপন আলী বলেন, মাঠে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কিছুক্ষণ কাজ করলেই শরীর ভিজে যাচ্ছে ঘামে। তীব্র গরমে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। বৃষ্টি হলে কিছুটা স্বস্তি মিলত।
শহরের বিভিন্ন সড়ক ও বাজার এলাকায় মানুষের চলাচল তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। তবে গরমের কারণে ঠান্ডা পানীয়, ডাবের পানি ও আখের রসের চাহিদা বেড়েছে।
এদিকে তাপদাহে মানুষের কষ্ট লাঘবে কয়েকটি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিভিন্ন স্থানে পথচারীদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও শরবত বিতরণ করছে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, জেলায় পাঁচ দিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকায় গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামীকাল থেকে দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে, এতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন