টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে আনারস চাষের জন্য পরিচিত। তবে এবার উপজেলায় পেঁপে চাষে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
চলতি মৌসুমে উপজেলার ১,০৫৬ হেক্টর জমিতে পেঁপের আবাদ হয়েছে এবং ভালো ফলনের কারণে কৃষকদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আগের মৌসুমে আনারসের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার আনারসের পাশাপাশি পেঁপে চাষে ঝুঁকি নিয়েছেন অনেক কৃষক। কেউ কেউ লিজে জমি নিয়ে শুধুমাত্র পেঁপের বাগান করছেন। উন্নত জাতের চারা রোপণ করায় প্রতিটি গাছ থেকে চার থেকে পাঁচ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে।
মধুপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, আনারসের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে পেঁপে, আদা, হলুদ, কলা ও লেবু চাষ শুরু করেছেন।
অরণখোলা ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম ২৯ বিঘা জমিতে উচ্চফলনশীল পেঁপে চাষ করছেন। তিনি ইতিমধ্যেই মৌসুমের শুরুতে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার কাঁচা পেঁপে বিক্রি করেছেন এবং আগস্টের পর নতুন পেঁপের ফলন আশা করছেন।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, “মধুপুরের মাটি ও আবহাওয়া সব ফসলের জন্যই উপযোগী। আনারসের পাশাপাশি পেঁপে, কলা, পেয়ারা, ড্রাগনসহ অন্যান্য অর্থকরী ফসল চাষ হচ্ছে। ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা বেশি আগ্রহী। উন্নত জাতের টপ লেডি, রেড লেডি ও সুইট লেডি পেঁপে চাষ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে অন্তত ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার পেঁপে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।”
মধুপুরের কৃষকেরা পেঁপে চাষের এই সাফল্যে নতুন উদ্দীপনা ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন, যা আগামী মৌসুমেও পেঁপে চাষে তাদের আরও উৎসাহ যোগাবে।
হামিদ/ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন