নতুন রূপে ফিরতে চায় শেবাচিম

আরিফ হোসেন, বরিশাল ব্যুরো প্রকাশিত: আগস্ট ২৭, ২০২৫, ০৫:৩৬ পিএম
নতুন রূপে ফিরতে চায় শেবাচিম

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে বিগত আট মাসে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে রোগীদের চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা, বাস্তবায়িত উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শেবাচিম বরিশালসহ আশপাশের ১০টিরও বেশি জেলার প্রায় দেড় কোটি মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল। ২০১৩ সালে হাসপাতালটি ১০০০ শয্যায় উন্নীত হলেও অবকাঠামো ও জনবল এখনও ৫০০ শয্যাপ্রতিবেশী। প্রতিদিন ৩,০০০-এর বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়।

গত ৮ মাসে সেবার মানোন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • ডায়ালাইসিস মেশিন ১০ থেকে ২০টি করা, আরও ৫টি ক্রয় প্রক্রিয়াধীন
  • অধিকাংশ প্যাথলজি ও রেডিওলজি পরীক্ষা হাসপাতালেই করা
  • সিটি স্ক্যান পুনরায় চালু, এন্ডোসকপি, ইউরোলজি, নিউরো সার্জারিসহ নিয়মিত অপারেশন চালু
  • ৯৫টি অকেজো চিকিৎসা যন্ত্র সচল করা
  • মেডিসিন বিভাগ নতুন ভবনে স্থানান্তর
  • দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণে কার্ড ব্যবস্থা চালু
  • সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা বৃদ্ধি, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট বন্ধ
  • পরিচ্ছন্নতায় ৯০ জন কর্মী নিয়োগ, ৮টি স্বয়ংক্রিয় মেঝে পরিষ্কারের মেশিন চালু, আরও ৭টি আসছে সেপ্টেম্বরে
  • পানীয় জলের ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে

নতুন ওটি চালু করা হয়েছে, সেখানে নিউরো সার্জারি হচ্ছে; মানসিক বিভাগ চালু; নতুন ১০০টি বেড সংযোজন ও কেবিন আধুনিকায়নের কাজ চলছে। রোগী হয়রানি রোধে দালাল, হকার ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় রয়েছে—৩,২০০ নার্স ও ৩,০০০ চিকিৎসক নিয়োগ, অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি, শিশু ওয়ার্ড স্থানান্তর, ৫০ বেডের নতুন আইসিইউ, এমআরআই ও ক্যাথল্যাব স্থাপন।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় হাসপাতালকে ৩,০০০ শয্যায় উন্নীত করা, পুরাতন ভবন ২০ তলা করা, নতুন ভবনগুলো উঁচু করা, রেফার্ড পদ্ধতি ছাড়া রোগী ভর্তি না করা ও জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করা।

পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুনীর বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সকলের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা কাজ করছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হবে।”

ইএইচ