গাজীপুরে ‘গৌরবের জুলাই’ অনুষ্ঠান: ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে ঐক্যের ডাক

গাজীপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
গাজীপুরে ‘গৌরবের জুলাই’ অনুষ্ঠান: ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন ঠেকাতে ঐক্যের ডাক

জুলাই ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরে ‘গৌরবের জুলাই ২০২৬’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দিনব্যাপী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার শহীদ পরিবার, আহত জুলাই-যোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি এবং প্রধান আলোচক ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।

সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনির সহধর্মিণী তাপসী তন্ময় চৌধুরীর মূল উদ্যোগে এবং বিএনপি নেতা গাজী সালাউদ্দিন ও মিশফাত আরা মাইশার যৌথ সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহরিয়ার নাজির, শহীদ শাকিল পারভেজের পিতা বেলায়েত হোসেন, গুম হওয়া ফারুক হোসেন টিটুর মেয়ে রোজামনিসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের নয়। যাঁরা জুলাই চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চান, তাঁরা মূলত এ চেতনার সঙ্গে বেইমানি করছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রামের পরিণতিতেই জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। এই আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, সব বিভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের দোসররা এখনো সুযোগ পেলেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তাঁদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে এবং দেশকে সম্মিলিতভাবে পাহারা দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরপরাধ মানুষ প্রাণ না হারায়।

বক্তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব ও সাফল্যের পেছনে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, দেশের মায়েরা এবং সাধারণ জনগণেরও অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। আন্দোলনের সময় যাঁরা পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল, তাঁদের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তাঁরা।

আলোচনা সভা শেষে জুলাই বিপ্লবের রক্তঝরা দিনগুলোর ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ‘রক্তে লেখা মুক্তি’ শীর্ষক সচেতনতামূলক পুতুলনাচ ও নাটিকা পরিবেশন করা হয়।

জেএইচআর