গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হাট ভরতখালী সরকারপাড়া আহলে হাদিস জামে মসজিদের কমিটি মসজিদের পাশে স্থাপিত আকন্দ “স” মিলের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে কমিটির সদস্যরা প্রধান বন সংরক্ষক, ঢাকা বরাবরে লিখিত আবেদন করেছেন।
এ আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রংপুর বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা স্মৃতি সিংহ রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তকার্য সম্পন্ন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা বন কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. শরীফুল ও সাঘাটা উপজেলার পরিবেশ ও বন বিভাগের সদস্য সচিব মো. আব্দুল মান্নান।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৬ জুন আকন্দ “স” মিলকে লাইসেন্স প্রদান না করার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ মে মৃত মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। কিন্তু অভিযোগ সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, করাত কল লাইসেন্স বিধিমালা ২০১২ অনুযায়ী মসজিদ ও মাদ্রাসার ২০০ মিটার মধ্যে কোনো করাত কল স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু আকন্দ “ছ” মিলটি আহলে হাদিস জামে মসজিদ থেকে মাত্র ৩২ মিটার দূরে অবস্থিত। এছাড়া মিলটির পাশে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীনের বসতবাড়ি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জেলা বন কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. শরীফুল ইসলাম মণ্ডল অভিযোগের পর করাত কল মালিক মো. আমিনুল ইসলাম আকন্দকে ২০২৫ সালের লাইসেন্স (নং-১০/২০২৫) প্রদান করেছেন। এমনকি ২০২৫ সালের ৮ মে তিনি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে মিথ্যা ও মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
অভিযোগকারীদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার বসতবাড়ি মিলের পাশে মাত্র ২০ ফুট দূরে। মিলের শব্দদূষণে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারছি না। পরিবেশ ছাড়পত্র না নিয়ে মিল চালানো হচ্ছে, এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
মসজিদ কমিটির অভিযোগ, করাত কল থেকে পরিবেশ ও শব্দ দূষণের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আইন লঙ্ঘন হয়েছে। তাই তারা পুনঃতদন্তের মাধ্যমে করাত কলের লাইসেন্স বাতিলের দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে করাত কল মালিক মো. আমিনুল ইসলাম আকন্দ জানান, “আমি বৈধ লাইসেন্স নিয়ে মিল পরিচালনা করছি।”
রংপুর বিভাগীয় বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা স্মৃতি সিংহ রায় বলেন, “তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন