সিংগাইরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার, জানেন না সভাপতি

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫, ০৪:১৮ পিএম
সিংগাইরে বিএনপি নেতা বহিষ্কার, জানেন না সভাপতি

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য সেলিম হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

সোমবার উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শরিফ খোকন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হলেও, বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবিদুর রহমান খান রোমান কিছুই জানেন না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সেলিম হোসেন ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার সৈয়দ আবু সুফিয়ানের মধ্যে ১৪ কোটি টাকা পাওনা নিয়ে সালিসি বৈঠক হয়েছিল। সালিসি বৈঠকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠু আবু সুফিয়ানের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিলেন। 

এছাড়া, রাজনৈতিকভাবে দু’জনই দুই গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল।

সেলিম হোসেন জানান, সম্প্রতি ব্যবসায়িক পাওনা নিয়ে তার অংশীদার সৈয়দ আবু সুফিয়ানের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে। এরপর তাকে ও তার ছেলেকে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। মামলার পেছনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জে.ও.এম তৌফিক আজমের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। 

এছাড়া এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন। 

সেলিম বলেন, “উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠুর একক সিদ্ধান্তে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমি এই বহিষ্কারাদেশ মানি না।”

অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবিদুর রহমান খান রোমান বলেন, “সেলিমকে বহিষ্কারের বিষয় নিয়ে কোনো দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি। সাধারণ সম্পাদক আমাকে বিষয়টি জানাননি। আমি একমাত্র দলের নেতাকর্মীর কাছ থেকে শুনেছি। আমার ধারণা, এটি ব্যক্তিগত আক্রোশে নেওয়া সিদ্ধান্ত।”

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বিষয়টি গঠনতন্ত্রবিরোধী ও ব্যক্তিগত আক্রোশজনিত বলে উল্লেখ করেছেন। 

বলেন, “কাউকে বহিষ্কার করতে হলে সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করতে হয়। নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেলিম হোসেনের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া মানা হয়নি।”

ইএইচ