দীর্ঘ আন্দোলন একাধিক কমিটি ও লিখিত আশ্বাসের পরও সমাধান না আসায় চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (পটিয়া) এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রোববার থেকে গণছুটি কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলা ও দমন-পীড়নের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। দাবি পূরণ না হলে চট্টগ্রামে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সমিতির এক জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান না এলে সারাদেশের ৮০টি সমিতির মতো চট্টগ্রামেও গণছুটি কর্মসূচি শুরু হবে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নেতারা জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রথম কমিটি গঠন করলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২৩ অক্টোবর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয় এবং আট মাস পর প্রতিবেদন দাখিল হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। ২১ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত টানা ১৬ দিন শহীদ মিনারে আন্দোলনের পর লিখিত আশ্বাস দেওয়া হয়। ১৭ জুন নতুন কমিটি গঠন হলেও তিন মাস অতিক্রান্ত হলেও সমাধান আসেনি।
তাদের দাবি, সমাধান না দিয়ে উল্টো দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। ৬ আগস্ট এক কর্মকর্তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়। মুক্তির পর আবারও জামিন বাতিল করা হয়। ১৭ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত বা সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরও ২ জনকে চাকরিচ্যুত ও ৪ জনকে বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৬ জন চাকরিচ্যুত, ২০ জন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযুক্ত, শতাধিক বরখাস্ত বা সংযুক্ত এবং প্রায় ৬,৫০০ কর্মীকে নিজ জেলা থেকে ৪–৫ শত কিলোমিটার দূরে বদলি করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, জেলা প্রশাসক সম্মেলন–২৫ এ গৃহীত “আরইবি–পিবিএস একীভূতকরণ ও অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন” দ্রুত কার্যকর করা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগ বিষয়টি বারবার পুনর্বিবেচনার নামে বিলম্ব করছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পটিয়া জোনাল হেড অফিসে প্রতীকী লাশ নিয়ে কয়েক শত কর্মকর্তা-কর্মচারী বিক্ষোভ করেন।
চট্টগ্রাম পবিস-১ এর আন্দোলনকারীদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. আবিদ হাসান ফরহাদ বলেন,“আমরা গত পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ সেবা সচল রেখেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে অবশেষে গণছুটি কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছি।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন