ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পাগলা ঘোড়ার আক্রমণে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ যাকে সামনে পাচ্ছে ঘোড়াটি, তাকেই আক্রমণ করছে। এতে পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার সকাল ৭টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসদরের কলেজ রোড ও চৌরাস্তা এলাকায় একাধিক আক্রমণের ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত দুইদিনে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ঘোড়াটির কামড় ও লাথিতে আরও অন্তত আটজন আহত হন। আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন- গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা গণমাধ্যমকর্মী কাজী হাসান ফিরোজ (৬০), আতাউর রহমান (৫৫), মো. সিদ্দিক (৪৫), শহিদুল (২৫), মনিরা বেগম (৩৬) ও আলেয়া বেগম (৩৪)। অন্যদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
চৌরাস্তা এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল মিয়া বলেন, সকালে দোকান খোলার সময় ঘোড়াটি তাঁকে আক্রমণ করতে আসে। লাঠি দিয়ে প্রতিরোধ করলে ঘোড়াটি পালিয়ে যায়। তবে তার আগেই গণমাধ্যমকর্মী কাজী ফিরোজকে কামড় দেয়।
পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. নিজাম উদ্দিন খান জানান, গত দুইদিনে নারী-পুরুষ মিলে অন্তত ৮ থেকে ১০ জনকে আক্রমণ করেছে ঘোড়াটি।
ধারণা করা হচ্ছে, কোনো পাগলা কুকুর ঘোড়াটিকে কামড়ানোর পর থেকেই এটি অস্বাভাবিক আচরণ করছে।
আক্রান্ত গণমাধ্যমকর্মী কাজী হাসান ফিরোজ বলেন, “সকালে মোটরসাইকেলে রেলস্টেশনে যাওয়ার পথে চৌরাস্তা এলাকায় ঘোড়াটি আমাকে আক্রমণ করে। কোমরে কামড় দিলে আমি পড়ে যাই। আশপাশের লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছি, তবে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছি।”
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোর্শেদ আলম বলেন, “সকালে ঘোড়ার কামড়ে আহত কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের ব্যথানাশক ওষুধ ও টিটেনাস ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ঘোড়াটিকে কোনো পাগলা কুকুর কামড় দিয়েছে।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শওকত আলী বলেন, “স্থানীয়রা ঘোড়াটিকে আটক করেছে। বর্তমানে এটি গুনবহা গ্রামে রয়েছে। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়, তাহলে তিন-চার দিনের মধ্যে মারা যাবে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন