সহিংসতার জেলা মাগুরা

ত্রয়োদশ নির্বাচনে রক্ত নাকি শান্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি কি? 

মিরাজ আহমেদ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫, ০৪:৪৯ পিএম
ত্রয়োদশ নির্বাচনে রক্ত নাকি শান্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি কি? 

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাগুরার সাধারণ ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা। কারণ,গত চার দশকের নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার চিত্র এই জেলায় যেন এক অমোঘ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাগুরা-১ (জাতীয় সংসদের ৯১নং আসন): ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির এম এ মতিন এমপি নির্বাচিত হন। এরপর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের পালাবদলে মজিদ-উল-হক, মোহাম্মদ সিরাজুল আকবর, এ টি এম আব্দুল ওয়াহাব, সাইফুজ্জামান শিখর এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে সাকিব আল হাসান নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার (ডিসেম্বর ২০২৩): ৪,০০,৪৯১ এর মধ্যে মধ্যে পুরুষ: ২,০০,৮৬৩ নারী: ১,৯৯,৬২৬ তৃতীয় লিঙ্গ: ২জন।

মাগুরা-২ (জাতীয় সংসদের ৯২নং আসন): ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান এমপি হন। এরপর জাতীয় পার্টির নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির কাজী সালিমুল হক কামাল এবং আওয়ামী লীগের বীরেন শিকদার একাধিকবার নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বীরেন শিকদার পুনর্নির্বাচিত হন। এ আসনে মোট ভোটার (ডিসেম্বর ২০২৩): ৩,৮৭,৪৩৯ এর মধ্যে পুরুষ: ১,৯৭,৩৪৪ | নারী: ১,৯০,০৯৫জন।

তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে সহিংসতার পরিসংখ্যান বিগত নির্বাচনে সহিংসতা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।মাগুরা-১ (সদর-শ্রীপুর): ১৫২ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৮টিতে সহিংসতা, শান্তিপূর্ণ ছিল মাত্র ৩৪টি। 

মাগুরা-২ (শালিখা-মোহাম্মদপুর): ১৪৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৯২টিতে সহিংসতা, শান্তিপূর্ণ ছিল ৫১টি।সব মিলিয়ে জেলার মোট ২৯৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ২১০টি অতীতে সহিংসতার সাক্ষী।

সহিংসতা নিরসনে মাগুরার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি কি? 

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. অহিদুল ইসলাম জানান, “অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে। ভোটকেন্দ্রে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং সিসি ক্যামেরা নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

পুলিশ সুপার মিনা মাহামুদা জানান, “আমরা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছি। এবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার মোতায়েন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।”

জেলা নির্বাচন অফিসার মো. মাসুদুর রহমান জানান, “ভোটাররা যেন ভীতিহীন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকির তালিকা তৈরি হচ্ছে।”

জেলা কমান্ড্যান্ট (আনসার ও ভিডিপি) মো. মাহবুবুর রহমান সরকার জানান, “প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আনসার সদস্য থাকবে। তারা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। সহিংসতা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত।”

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও মাগুরার সচেতন ভোটাররা ভাষ্য, “১৯৮৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমরা বহু নির্বাচনে সহিংসতা দেখেছি। এবার আর সেই দৃশ্য দেখতে চাই না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নিতে চাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবার কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।”

জেএইচআর