নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় ব্যতিক্রমধর্মী বর্ষাকালীন তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। মালচিং পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড সুগার কুইন জাতের তরমুজ চাষে দারুণ ফলন পাওয়া গেছে। এই জাতের তরমুজ সারা বছর ফলন দেয় এবং বাজারে খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় চাহিদা বেশি।
প্রতি তরমুজের ওজন ৩–৫ কেজি এবং প্রতি বিঘা জমিতে ১,৫০০–২,০০০টি তরমুজ পাওয়া যায়।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিভিরতা বৃদ্ধিকরণ প্রদর্শনী প্রকল্পের আওতায় কেন্দুয়া উপজেলায় কালো তরমুজ চাষ করা হয়েছে। গাছের ওপর সবুজ পাতা এবং নিচে ঝুলে থাকা তরমুজকে ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি তরমুজে জালি ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জমিতে আগে পটোল ও করলা চাষ হতো, এখন সেখানে বর্ষাকালীন সুগার কুইন জাতের তরমুজ চাষ করা হচ্ছে।

উচ্চ ফলনশীল মার্সেলো জাতের এই তরমুজ ভাইরাস-সহনশীল। লম্বাটে ডিম্বাকৃতির তরমুজের ভিতরের অংশ গাঢ় লাল রঙের। জুনে চারা রোপণ করার ৬০–৬৫ দিনের মধ্যে ফল পাওয়া যায়।
কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের পাথারিয়া গ্রামের বারোমাসি তরমুজ চাষি মো. সুমন মিয়া জানান, “আমার ৫০ শতক জমিতে আমরা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই বিষমুক্ত তরমুজ চাষ করেছি। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫০–৫৫ টাকায়। কিছুদিন পর বিক্রি শুরু করব, আশা করি ভালো লাভ হবে। বারোমাসি তরমুজ চাষে আমি সফল হয়েছি।”
তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সারোয়ার হুসেন বলেন, “সুমন মিয়ার খেত দেখে খুব ভালো লাগছে। খেয়ে দেখেছি তরমুজ সুস্বাদু ও মিষ্টি। আমি এ বছর অল্প জমিতে চাষ করেছি, আগামী বছর দুই বিঘা জমিতে চাষ করব।”
কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, “রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত তরমুজ চাষ করতে মালচিং পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল সুগার কুইন জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে। কম খরচে বর্ষাকালীন এই চাষে কৃষকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করতে এবং সার্বিক সহযোগিতা করতে কাজ করছি।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন