ভেড়ামারায় দেশীয় মাল্টা চাষে সফল হাসান

হেলাল মজুমদার, ভেড়ামারা প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৫, ০২:৩১ পিএম
ভেড়ামারায় দেশীয় মাল্টা চাষে সফল হাসান

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের গোলাপনগর বাগগাড়ি পাড়ার তরুণ কৃষক হাসান আলী ৭ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন। তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অনেকেই নতুন করে মাল্টা বাগান করছেন। 

চাষাবাদে লোকসানের ঝুঁকি কম, খরচও তুলনামূলক কম। বাজারে দেশীয় মাল্টার চাহিদা বেশি হওয়ায় এবং স্বাদে সুস্বাদু হওয়ায় গ্রামাঞ্চলে মাল্টা দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে হাসানের বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় মাল্টা ঝুলছে। হাসান জানান, “আমাদের এলাকায় মাল্টা চাষ করা সম্ভব, এটা আগে ভাবিনি। ২০২১ সালের নভেম্বরে দিনাজপুর, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা থেকে ৫ জাতের ১,৪০০ চারা এনে ৭ বিঘা জমিতে রোপণ করি। 

বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই গাছে প্রচুর ফল এসেছে। বাজারের মাল্টার তুলনায় স্বাদে ও গুণে এগিয়ে আমাদের দেশীয় মাল্টা।”

তিনি আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছি। পাইকারি ক্রেতারা মণ হিসেবে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বাগান পরিষ্কার রাখলেই ফলন ভালো হয়।”

ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান জানান, বর্তমানে ভেড়ামারায় প্রায় ৮ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হচ্ছে। মূলত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মাল্টা সংগ্রহের মৌসুম। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের ফলবাগান প্রতিষ্ঠায় উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন প্রদর্শনী করছে।

তিনি বলেন, “জাতীয় খাদ্য নির্দেশিকা ২০২০ অনুযায়ী প্রতিদিন একজন মানুষের ১০০ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ মাল্টা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বক ও চুল ভালো রাখা এবং শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। বারি-১ জাতের মাল্টা চাষে অনেকেই সাফল্য পেয়েছেন। এ অঞ্চলে মাল্টা চাষ ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন।”

ইএইচ