গাইবান্ধার সাঘাটা বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই অলিগলি ও চারপাশের প্রবেশ পথ হাঁটুপানি ও কাদায় তলিয়ে যায়। এতে স্কুলগামী শিশু থেকে শুরু করে হাসপাতালে আসা রোগীসহ সব শ্রেণির মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
গত দুইদিনের হালকা বৃষ্টিতেই বাজারের চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথগুলো পানিতে ডুবে গেছে। নোংরা পানি ও কর্দমাক্ত রাস্তা পেরিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষকে পড়তে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগে।
সাঘাটা বাজার শুধু উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক কেন্দ্রই নয়, এটি সদর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
এ এলাকার আশেপাশে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ডিগ্রী কলেজ, থানা, সাঘাটা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একাধিক কিন্ডারগার্টেন এবং অসংখ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বেহাল দশায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক দ্বীজেন্দ্র নাথ পাল বলেন, “আমার চেম্বারের সামনের গলিতে সবসময় নোংরা পানি জমে থাকে। প্রতিদিন শতাধিক রোগী কর্দমাক্ত পথ পেরিয়ে আসতে বাধ্য হন।”
কাঁচামাল ব্যবসায়ী রুবেল জানান, “ফল ও সবজির দোকানের সামনে কাদা ও দুর্গন্ধের কারণে ইট, পাথর বা কাঠ দিয়ে বসতে হয়। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই দুর্ভোগে পড়েন। জলাবদ্ধতার কারণে মশার উপদ্রবও বেড়ে গেছে।”
সাঘাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। অনেক সময় পিছলে পড়ে বই-খাতা নষ্ট হয়, হাত-পা ভাঙার ঘটনাও ঘটে। তাই দ্রুত রাস্তাগুলো সংস্কার করা জরুরি।”
এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যেমন— সাঘাটা হাসপাতালগামী রাস্তা, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের রাস্তা, ডিগ্রী কলেজ, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, থানা, হাসিলকান্দি ও চিনিরপটলগামী রাস্তা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী প্রবেশ পথ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় রয়েছে।
এদিকে বাজারের স্যানিটেশন ব্যবস্থা আরও নাজুক। বাজারের দুইটি সৌচাগার দীর্ঘদিন ধরে মল-মূত্রে পরিপূর্ণ। পরিচ্ছন্ন কর্মী ও পানির ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবহারকারীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, ফলে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এটি পরিবেশ দূষিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ মন্ডল রাঙ্গা বলেন, “বাজারের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বৃষ্টি হলেই পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। মাঝে মাঝে সাময়িক সমাধানের চেষ্টা করি, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। সরকারিভাবে দ্রুত সংস্কার এখন অত্যন্ত জরুরি।”
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর মো. আল কামাহ্ তমাল জানান, “বাজারগুলোতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা চলছে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংস্কার কাজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সাঘাটা সদরের জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন