বিয়ের ফাঁদে ফেলে তিন নারীকে পাচারের চেষ্টা: চীনা নাগরিকসহ আটক ২

আশরাফ গোলাপ, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
বিয়ের ফাঁদে ফেলে তিন নারীকে পাচারের চেষ্টা: চীনা নাগরিকসহ আটক ২

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় বিয়ের প্রলোভনে তিন নারীকে চীনে পাচারের চেষ্টা করার সময় এক চীনা নাগরিকসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

রোববার দিবাগত রাতে কেন্দুয়া পৌর সদরের সলফ কমলপুর গ্রামের রুবেল মিয়ার বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয়। 

বর্তমানে তারা কেন্দুয়া থানা হেফাজতে আছেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১০টার দিকে একটি প্রাইভেটকারে করে ওই চীনা নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি নাগরিকসহ রুবেল মিয়ার মেয়ে (গার্মেন্টসকর্মী), তার খালাতো বোন এবং জামালপুরের আরেক কিশোরী রুবেল মিয়ার বাড়িতে আসে। 

তারা পরিবারকে জানায়, চীনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা যাবে। 

স্থানীয়রা জানতে পারে, রুবেল মিয়ার মেয়ের সঙ্গে চীনা নাগরিকের বিয়ে হয়েছে। এ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে উপস্থিতরা বিয়ের কাগজপত্র চাইলে মোবাইলে কিছু নথি দেখানো হয়, তবে তাতে অসংগতি ধরা পড়ে।

পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মদন সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ ক্যাপ্টেন শাহরিয়ারকে অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দুয়া থানার ওসিকে জানান। 

খবর পেয়ে রাত ২টা ১৫ মিনিটে কেন্দুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মিহির রঞ্জন দেব ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন তরুণীসহ এক চীনা নাগরিক এবং বাংলাদেশি নাগরিক ফরিদুল ইসলামকে আটক করেন। ভোর ৪টার দিকে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়।

আটককৃত চীনা নাগরিকের নাম লি ওয়েইহাও এবং বাংলাদেশি নাগরিকের নাম মো. ফরিদুল ইসলাম (৩৫), কুড়িগ্রামের রাজারহাটের আ. হানিফ মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা দাবি করেন, ফরিদুল নারী পাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত। তার মোবাইল ফোন থেকে একাধিক চীনা নাগরিক ও নারীর সঙ্গে কথোপকথন এবং ডুয়েট ছবি পাওয়া গেছে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন,“খবর পেয়ে আমরা একজন চীনা নাগরিক ও একজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমদাদুল হক তালুকদার জানান,“ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।”

মদন সেনা ক্যাম্পের ইনচার্জ ক্যাপ্টেন শাহরিয়ার বলেন,“আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশকে অবহিত করি। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইএইচ