রাজশাহীর তানোর উপজেলার একান্নপুর গ্রামের আম ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলামের ছেলে হামিম আলী। তার জীবনের গল্প সিনেমার মতো নাটকীয়।
পড়াশোনার দৌড় ক্লাস এইট পর্যন্ত হলেও মনের জোর আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি আজ একজন সফল উদ্যোক্তা।
প্রথমে বাড়ির পাশে একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন হামিম। কিছুদিন পর বিয়ে হয় তার। শুরুতে সবকিছু ভালো চললেও পরবর্তীতে বকেয়া ও ঋণের চাপ বাড়তে থাকে। বাবার ব্যবসায়ও মন্দা দেখা দিলে বাবা-ছেলের মোট দেনা দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ টাকা। চরম দুঃসময় নেমে আসে তাদের জীবনে।
এ সময় রেডিও মহানন্দার মাধ্যমে জানতে পারেন, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটি ‘রেইজ প্রকল্প’-এর আওতায় বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সেখান থেকেই মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণের সুযোগ পান হামিম।
হামিম আলী জানান, “ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই প্রশিক্ষণ শুরু করি। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা নির্ধারিত সময় থাকলেও আমি রাত ৮টা পর্যন্ত থেকে শিখতাম। ভেবেছিলাম এটাই আমার শেষ সুযোগ।”
ছয় মাসের প্রশিক্ষণের পর কমিশনভিত্তিকভাবে একটি দোকানের পাশে টেবিল নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। এক বছর পর সেই টেবিল ভাড়া নিয়ে মাসে ২০–৩০ হাজার টাকা আয় করতে থাকেন। বাবার ব্যবসা ও নিজের আয়ে মিলিয়ে ৭ লাখ টাকার দেনা শোধ করেন।
বর্তমানে হামিম আলীর নিজস্ব দোকান আছে, মাসে ৯ হাজার টাকা ভাড়া দেন। দুইজন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন, যাদের প্রত্যেককে ১২ হাজার টাকা বেতন দেন। তিনি মোটরসাইকেলও কিনেছেন এবং আরও বড়ভাবে ব্যবসা এগিয়ে নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “প্রয়াসের রেইজ প্রকল্প শুধু প্রশিক্ষণই দেয়নি, দিয়েছে আত্মবিশ্বাস। ২১ হাজার টাকা সহায়তা না পেলে হয়তো প্রশিক্ষণ নিতে পারতাম না। আজ আমি শুধু নিজের জীবনই বদলাইনি, অন্যদেরও পথ দেখাতে পারছি।”
প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির রেইজ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আলম বিশ্বাস বলেন, “পিকেএসএফ-এর সহায়তায় আমরা বেকার যুবকদের বিভিন্ন ট্রেডে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেই। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে প্রত্যেককে ২১ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা ও প্রশিক্ষককে ১৮ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “হামিম আলীর মতো যারা ঘুরে দাঁড়ান, স্বাবলম্বী হন, তাদের দেখে আমাদের প্রকল্পকে সার্থক মনে হয়।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন