ফরিদপুরের সদরপুরে নিজের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে গলায় রশি নিয়ে মায়ের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রাথমিকভাবে এ ঘটনার কোনো কারণ জানা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের রমজান শেখের স্ত্রী সুমাইয়া বেগম (২৩) তার ছেলে হুজাইফা(৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্বকান্দি গ্রামের রমজান শেখের স্ত্রী সুমাইয়া বেগম তার শিশু ছেলে হুজাইফাকে গলাকেটে হত্যা করে ফেলে রাখে। পরে তিনি গলায় রশি বেঁধে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে থানা পুলিশে খবর দেয় এবং সুমাইয়া বেগমকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
নিহতের স্বামী রমজান মুন্সী কয়েক বছর সিঙ্গাপুরে প্রবাসে ছিলেন। তবে দুই বছর আগে দেশে ফিরে আসেন এবং বর্তমানে আবার বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
নিহতের শ্বশুর মোতালেব মুন্সী জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির পাশে গরুর জন্য ঘাস কাটতে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ বাড়িতে চিৎকার শুনে ছুটে এসে তিনি এই ঘটনার মুখোমুখি হন। তার দাবি, ছেলে রমজান ও সুমাইয়ার মধ্যে সম্পর্ক ভালোই ছিল, তাদের মধ্যে কোনো কলহ ছিল বলে জানা নেই।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রতিবেশী জানান, দাম্পত্য জীবনে রমজান ও সুমাইয়ার মধ্যে প্রায়ই ঝগড়ার শব্দ তারা শুনতেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের খাটের ওপর থেকে শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গৃহবধূ সুমাইয়া বেগম গলায় রশি নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে প্রাথমিকভাবে এর কোনো কারণ জানা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, শিশুটিকে গলাকাটা অবস্থায় কম্বল প্যাঁচানো মৃত অবস্থায় ঘরের ভেতর পাওয়া গেছে। আর তার মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন