কুষ্টিয়ার মিরপুর বাজারে (ঈগল চত্বর) সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে “এইচ সি শপিং কমপ্লেক্স” নামের একটি বহুতল ভবন।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের প্রথম তলা প্রায় সম্পন্ন, অথচ মিরপুর পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সেবা ওষুধালয়ের স্বত্বাধিকারী জিয়ানুল হক খান বাবলু চৌধুরী ক্ষমতার জোরে ভবনটির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অর্থায়নে নির্মাণাধীন প্রায় ২২ কোটি টাকার ব্রিজের এপ্রোস রোডের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া জনসাধারণের চলাচল ও বাজারের ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও বড় ধরনের অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছে।
সম্প্রতি এই অভিযোগের ভিত্তিতে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক নাজমুল ইসলাম সরেজমিনে যান।
এ সময় নির্মাণাধীন ভবনের মালিক বাবলু চৌধুরী জানান, “এটি আমার দলিলভুক্ত সম্পত্তি, তাই ভবন নির্মাণ করছি।”
ইউএনও নাজমুল ইসলাম বলেন, “সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করা আইনভঙ্গ। পৌর প্রশাসন বিষয়টি দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বাবলু চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা দখল করে বিলাসবহুল বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন। তার পরিচালিত “বিউটি সুপার মার্কেট” বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পত্তিতে নির্মিত এবং এতে ৬০–৭০টি দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানদারের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা সিকিউরিটি নেওয়া হয় এবং প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, অথচ রেলওয়েকে কোনো কর পরিশোধ করা হচ্ছে না।
অন্যদিকে, সড়ক ও জনপথ খুলনা বিভাগীয় জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাকির হোসাইন বলেন, “ব্রিজের ডিজাইন ও জনচলাচল ব্যাহত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক নাজমুল ইসলাম বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি তারা দলিলভুক্ত সম্পত্তি দাবি করছে। পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে সরকারি জায়গা দখল হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে বাবলু চৌধুরী অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন এবং ট্যাক্স ফাঁকি ও সরকারি জায়গা দখলের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ও জনসাধারণের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন