ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও ফসলি জমি নষ্ট করার মামলার আসামিদের ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছে।
রোববার গভীর রাতে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, মোয়াজ্জেম হোসেন খান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার পর উপ-পরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রায় ১০ সদস্যের একটি দল আসামি সুলতান উদ্দিন খান (৫৫), সুমন মিয়া (৪২), কামাল মিয়া (৩৬) ও মাসুদ মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযানে যায়।
কিন্তু পুলিশ বাড়িতে প্রবেশ করতেই স্থানীয়রা ‘ডাকাত ডাকাত’ বলে চিৎকার শুরু করে এবং লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বাদী মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেন, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং পুলিশ সরে যাওয়ার পর তার বাড়িতে হামলা চালায়। তার দাবি, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও ফসলি জমি নষ্টের ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে প্রভাবিত করতেই প্রতিপক্ষ এ নাটক সাজিয়েছে।
অভিযুক্তদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজা মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে। কয়েক দিন আগে ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হাসান খান সেলিমের ঘোষণায় তারা আতঙ্কিত হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, রাতে পুলিশ পোশাকে কয়েকজন লোক বাড়িতে ঢুকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
তবে ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের আইনগত কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া উচিত নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন