পর্যটকরা চাইছেন উঁচুতে পুনঃস্থাপন

কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবেছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

মহুয়া জান্নাত মনি, রাঙামাটি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৫, ০৩:০১ পিএম
কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবেছে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ ৩৩৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ঝুলন্ত সেতু বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধির কারণে প্রায় দুই থেকে তিন মাস পানির নিচে ডুবে থাকে। 

বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ৩০ জুলাই থেকে সেতুতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পর্যটন সংক্রান্ত এই বাধা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের হতাশ করছে। 

দর্শনার্থীরা দাবি করেছেন, সেতুটি পুনঃস্থাপন করে আরও উঁচুতে করা হোক।

ঝুলন্ত সেতুটি ১৯৮৬ সালে নির্মিত এবং দুইটি বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। বছরে এ সেতুতে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন।

জনপ্রতি ২০ টাকা প্রবেশ ফি থেকে সরকার বছরে প্রায় ২৮–৩০ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে। সেতু বন্ধ থাকায় দৈনিক ২–৩ হাজার টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

ঢাকা থেকে আসা রিয়াদ মাসুদ আমার সংবাদকে বলেন, প্রথম বার রাঙামাটিতে আসা। প্রকৃতি যে কতটা সুন্দর ও স্নিগ্ধ হতে পাড়ে তা এখানে না এলে কেউ বুঝতে পারবে না। আমরা অনেক জায়গায় ঘুরেছি, এখন আসছি ঝুলন্ত সেতু দেখার জন্য কিন্তু সেতু এখন ডুবন্ত দেখে মনটা খারাপ হয়ে গেলো।

ঢাকা থেকে আসা আরেক পর্যটক ফাহামিদ বলেন, আমরা বন্ধুরা মিলে বেড়াতে এসেছি। এসে দেখি পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু পানিতে ডুবে গেছে। কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটি পুনঃস্থাপন বা সংস্কার করে আরও উঁচুতে করে তাহলে পানিতে ডুববে না।

রাঙামাটি ট্যুরিস্ট বোর্ডের ম্যানেজার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, “যখন ঝুলন্ত সেতু থেকে পানি নেমে যায় তখন পর্যটক ভরপুর হয়।”

রাঙামাটি মোটেল ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, “একই স্থানে আধুনিক সেতু নির্মাণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড একটি কমিটি গঠন করেছে। আশা করি আধুনিক সেতু নির্মিত হলে পর্যটকদের আরও ভালোভাবে অভিজ্ঞতা দিতে পারবো। বিকল্প হিসাবে সাইড এইট ইকো পার্ক চালু করেছি, যা কিছুটা হলেও দর্শনার্থীদের বিনোদন দিচ্ছে।”

উল্লেখ্য, কাপ্তাই হ্রদের পানির ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। তবে মাত্র ১০৭ ফুট হলে পর্যটনের এ গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু ডুবে যায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি সরে গেলে সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণ করে পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে।

 

মনি/ইএইচ