শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে বিদ্যালয়ে সম্মুখ দেয়াল ঘেঁষে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও উল্টো চিত্র মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই স্কুলটির মূল ফটক ঘেঁষে নির্মাণ করা হচ্ছে সারি সারি দোকান সম্বলিত মার্কেট। এতে একদিকে সরকারি নিয়ম ভঙ্গ, অন্যদিকে দোকানগুলো বিদ্যালয়ের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের প্রধান সড়ক ঘেঁষে হওয়ায় ভবিষ্যতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বিড়ম্বনার আশংকা তৈরি হয়েছে।
জনদুর্ভোগের কথা উল্লেখ্য করে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের সড়ক সংলগ্ন বিদ্যালয়টি মূল ফটকের উত্তর অংশজুড়ে ১৬টি শার্টার যুক্ত দোকানপাট নির্মাণ প্রায় শেষ। তবে দোকানগুলো এখনো চালু হয়নি। স্কুলের ভবন ঘেঁষে ও পূর্বে থাকা দেয়াল ভেঙে এসব দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে।
স্কুল সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২-৩টি শার্টারে একটি করে দোকান হিসাবে ভাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। দোকানগুলোর পাশেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের সড়কে পথাচারী, যানবাহন চলাচল করছে।
অথচ, ২০১৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক অফিস আদেশে স্কুলের দেয়াল ঘেঁষে মার্কেট নির্মাণে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে উল্লেখ্য করে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে মার্কেট তৈরি করা যাবে না মর্মে নির্দেশনা দেয়া হয়। একই সাথে মার্কেট তৈরি হলে অপসারণ ও সর্তক থাকার কথা বলা হয়েছে।
উপসচিব আনোয়ারুল হক স্বাক্ষরিত ওই আদেশ ব্যতয় হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ্য ছিলো।
স্থানীয় কয়েকজন জানায়, সড়কটি দিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স গেলে অপরটি যাতায়াত করতে পারে না, প্রতিদিন শতশত মানুষ এই পথ দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াত করে। র্দীঘদিন ধরেই এই সড়কটি প্রশস্তের দাবি করা হচ্ছে। অথচ সড়ক ঘেঁষে স্কুল কর্তৃপক্ষ সেখানে নতুন করে দোকান নির্মাণ করেছে। এসব দোকান চালু হলে অদূর ভবিষ্যতে এই পথে আরও বিড়ম্বনা তৈরি হবে।
অন্যদিকে উপজেলার কেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়টি বিভিন্ন বোর্ড পরিক্ষার হল হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। সেসব পরীক্ষার সময় হলের আশেপাশে ১৪৪ ধারা জারির থাকে। কিন্তু দেওয়াল ঘেঁষে করা দোকানপাট খোলা রাখা হলে সে নিয়ম কিভাবে প্রতিপালন হবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মালেক জানান, ১৯৮২ সাল থেকেই টঙ্গিবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন বহিঃবিভাগ, জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন চিকিৎসায় ৮শ থেকে ৯শ রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। হাসপাতালের সড়কটি এমনিতেই সরু, তারপর যদি নতুন করে সেখানে দোকান উঠে তবে রোগী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্যগাড়ি, ওষুধের গাড়ি চলাচলে বিপাকে পড়তে হবে। আমরা চাই এ বিষয়টির যেনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি।
তবে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন খান জানান, অসুস্থতার কারণে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত। দোকান নির্মাণের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না, এটা ম্যানেজিং কমিটি বলতে পারবে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজি কমিটির সভাপতি রনি মল্লিক মুঠোফোনে জানান, বিগত সময়ের চেয়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠোমেসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে বর্তমান কমিটি। বিদ্যালয়টিতে ৮শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। এরমধ্যে ১শ জন দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীকে আমার বিনামূল্যে পড়ানোর প্রস্তুতি রয়েছে। রাস্তার পাশে ওইখানে আমাদের দেয়াল ঘেঁষে আগে বিভিন্ন ময়লা আর্বজনা ফেলা হতো। বিদ্যালয়ের আথির্ক বিষয়টি মাথায় রেখে সেখানে দোকানগুলো করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দোকানের আয় দিয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বেতন ও শিক্ষার্থীদের পড়ানো যায়। আর দোকানগুলো থেকে প্রাপ্য টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হবে। সে টাকা দিয়ে অন্য কারো স্বার্থে ব্যবহৃত হবে এমনটা নয়। তারপরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল, যদি আইন সম্মত না হয় তবে দোকানগুলো চালু করা হবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সেখানে নিয়ম না মেনে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। সরকারি দেওয়াল ঘেঁষে দোকান মার্কেট করার নিয়ম নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার স্কুলের শিক্ষকদের শতভাগ বেতন প্রদান করেন। তাহলে আবার টাকা কেনো প্রয়োজন হবে। তারপরও স্কুল পরিচালনায় যদি টাকা পয়সার প্রয়োজন হয় তবে তারা উপজেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হতে পারে। এভাবে নিয়মভঙ্গ হয় সেসব কাজ করতে পারে না।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন