চাঁদপুরে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত ২২৪ মন্দির

এমরান হোসেন রাজন, চাঁদপুর প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫, ০২:৩৭ পিএম
চাঁদপুরে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য প্রস্তুত ২২৪ মন্দির

চাঁদপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। এ বছর জেলায় ২২৪টি মন্দিরে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

আনন্দঘন পরিবেশ ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উৎসব সম্পন্ন করতে উদযাপন কমিটিগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে। 

ইতোমধ্যে উদযাপন কমিটির সঙ্গে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা একাধিক বৈঠক করেছেন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পঞ্চমী তিথি থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

জানা গেছে, এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা এক বৃদ্ধি পেয়ে ২২৪টিতে দাঁড়িয়েছে। নতুন মণ্ডপটি শহরের মুন্সেফপাড়ায় ‘পুষ্পাঞ্জলি সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ’ নামে পরিচিত।

মণ্ডপটির সভাপতি সুধীর চন্দ্র প্রভাত বলেন, “আমরা এ বছর প্রথমবারের মতো পূজার আয়োজন করেছি। প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতিও সম্পন্ন।”

জেলা সদরের পূজামণ্ডপগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমাশিল্পীরা শেষ সময়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। কোথাও মাটির অবয়বের কাজ চলছে, কোথাও রং-তুলির আঁচড়ে প্রতিমা সাজিয়ে তোলা হচ্ছে জীবন্ত রূপে। শিল্পীদের ছোঁয়ায় প্রতিমাগুলো দৃষ্টিনন্দন রূপ পাচ্ছে। এতে মন্দিরগুলোতে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। ভক্ত-দর্শনার্থীরা ঘুরে ঘুরে প্রতিমা দেখছেন। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অনেক মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

শহরের পালপাড়া শীতলা মায়ের মন্দিরে প্রতিমাশিল্পী গোবিন্দ পাল বলেন, “এখন এখানে দু’জন কাজ করছি। আমাদের দলে আরও দু’জন কচুয়ায় কাজ করছে। সারা জেলায় ১০–১৫টি দলে প্রায় ৫০–৬০ জন শিল্পী প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত আছেন। ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব প্রতিমা মন্দির কমিটির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্যানুযায়ী, জেলায় ৮ উপজেলায় মোট ২২৪টি মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪২টি, হাইমচরে ৬টি, মতলব উত্তর ৩৪টি, মতলব দক্ষিণ ৩৪টি, হাজীগঞ্জে ২৯টি, ফরিদগঞ্জে ২২টি, শাহরাস্তিতে ১৯টি এবং কচুয়া উপজেলায় ৩৮টি মণ্ডপ রয়েছে।

জেলার প্রধান কালীবাড়ি মন্দিরের পুরোহিত তপন চক্রবর্তী বলেন, “এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে গজে (হাতি) আর গমন হবে দোলায় (পালকি)। অর্থাৎ দেবী হাতিতে মর্ত্যে আগমন করে পালকিতে স্বর্গে প্রত্যাবর্তন করবেন। আমরা দেশের শান্তি ও ভক্তদের মঙ্গল কামনা করে মায়ের উদ্দেশ্যে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করব।”

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুবাষ রায় জানান, “নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের জন্য ইতোমধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে দু’বার বৈঠক হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবে। এ বছর স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জন হবে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী।”

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেছেন এবং নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগে পূজা পরিষদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিনি।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব জানান, “জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ, র‌্যাব, আনসারসহ অন্যান্য বাহিনী মাঠে থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও কাজ করবে। পূজা উদযাপন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা কাজ করব। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই।”

ইএইচ