সীতাকুণ্ডে রঙ বিলাস আখে কৃষকের চোখে রঙিন স্বপ্ন

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫, ০১:৪৪ পিএম
সীতাকুণ্ডে রঙ বিলাস আখে কৃষকের চোখে রঙিন স্বপ্ন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে উৎপাদিত আখ ইতোমধ্যে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছে। সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত নতুন জাতের সোনালি রঙের আখ যার নামকরণ হয়েছে ‘রঙ বিলাস’ তা চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত কয়েক বছরে এই আঁখের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে, এবং এর আবাদে ঝুঁকেছেন অনেকে। মাটির বিশেষ গুণে লালচে রঙের এই আখে অধিক ফলন ও দ্বিগুণ আয় হচ্ছে কৃষকদের।

সাধারণ জাতের তুলনায় অধিক মিষ্টি ও উচ্চ ফলনশীল এই বিশেষ আখটি স্থানীয়ভাবে ‘রঙ বিলাস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ইকোপার্ক সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকার মাটি এই আঁখের চাষের জন্য উপযোগী বলে জানান কৃষকরা। বেলে দো-আঁশ মাটিতে সারিবদ্ধভাবে চারা লাগানোর ৯ মাস পর এই আঁখ বিক্রয় উপযোগী হয়।

বর্ষার শেষ দিকে, প্রায় ৩-৪ ফুট দূরত্বে লাগানো গাছগুলোর ঢালপালা কেটে খুঁটিতে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। এক মাস পর তা পূর্ণাঙ্গ আঁখে পরিণত হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে তারা পাহাড়ের পাদদেশে দেশীয় জাতের আখ চাষ করতেন। পরবর্তীতে সেখান থেকেই উদ্ভাবিত হয় এই সোনালি জাতের ‘রঙ বিলাস’ আঁখ। তবে এই আঁখ শুধুমাত্র ইকোপার্ক সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায়ই ভালো ফলন দেয়; দেশের অন্য কোথাও এটি চাষ হয় না।

সোনালি আখের চাষে অন্যান্য জাতের তুলনায় দ্বিগুণ ফলন পাওয়ায় কৃষকরা দিন দিন এতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। কৃষক মুনছুর জানান, তিনি এ বছর প্রায় ৪ একর জমিতে ‘রঙ বিলাস’ চাষ করে ভালো লাভ করেছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাবিবুল্লাহ বলেন, খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় আঁখ আবাদে কৃষকদের আগ্রহ কিছুটা কম। বর্তমানে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে আঁখ চাষ হচ্ছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় মাটির বিশেষ গুণে এই সোনালি আখ চাষ সফলভাবে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই আখের জাতটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট এলাকার মাটিতেই উৎপাদন উপযোগী হওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে এর বাৎসরিক উৎপাদনমূল্য নির্ধারণ করা হয় না।

জেএইচআর