সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মোট ২৫২ জনকে আসামি করে আশুলিয়ায় দায়ের হওয়া মামলাটি সোমবার গ্রহণ করেছে ঢাকার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আদালত।
এ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা ও সম্মিলিত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেছেন মো. রফিকুল ইসলাম (৫৬) নামের এক ব্যক্তি। তিনি আদালতে দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
আদালত অভিযোগ শুনে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আগামী ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানি হবে ৬ অক্টোবর।
আলোচিত এ মামলায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংগঠনের নেতারা। যাদের মধ্যে অন্যতম- শেখ হাসিনা (৭৬) সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ওবায়দুল কাদের (৭৪) সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, হাসানুল হক ইনু (৭৮)সাবেক তথ্যমন্ত্রী, জাসদ সভাপতি, এবিএম সিদ্দিক আওয়ামী লীগের অর্থ যোগানদাতা। জসিম উদ্দিন শামীম (৫১) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা। মো. শামীম আহমেদ (৩৩)আওয়ামী যুবলীগ ক্যাডার। মো. আরমান (৩৯) আওয়ামী লীগ নেতা। মো. সাইফুল ইসলাম (৫৫)ব্যবসায়ী।
মামলায় মাগুরা জেলা এবং আশপাশের জেলার বহু নেতার নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- মীর সাজ্জাদ আলী চেয়ারম্যান বাবুখালী ইউনিয়ন, মিজানুর রহমান পলাশ সহ-সভাপতি বঙ্গবন্ধু ঐক্যলীগ, বজলু মৃধা ব্যবসায়ী, আলী হাসান স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি, মহিউস হয়ীর মহকাত সহ-সভাপতি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, গোলাম রব্বানী লাল্টু যুগ্ম সম্পাদক জননেত্রী পরিষদ, স্বপন সাহা সদস্য মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ, ইসমাইল হোসেন, সজল মৃধা, মাইনুল ইসলাম মানিক, সাদ্দাম হোসেন তালুকদার, সুজিত কুমার সাহা, মোস্তাফিজুল্লাহ সামসু, মতিউর রহমান জুয়েল, শাহরিয়ার মাহমুদ সুফল, জাকির হোসেন, সজিব, শাফিরুল, হিন্টু মণ্ডল, সবুজ শেখ, পান্নু মৃধা, কে এম সিরাজুল ইসলাম দুলাল খা, মো. ইউনুস আলী, জফার হোসেন, শুকুর আলী মনোয়ার, রিয়াজ উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, শামীম ইশতিয়াক, মোমিলন, মো. জিয়া, মো. মুক্তার মেম্বার, মশিউর খন্দকার, মফিজুর রহমান, মফিজুর রহমান মিনা, দেওয়ান সরদার, বেবী স্বর্ণালী জোয়ারদার রিয়া, হাদুজ্জামান আজান, মিজান শিকদার, ইকবাল আক্তার খান কাফুর উজ্জ্বল, মোস্তফা কামাল লিটন, মো. হোসেন মেম্বার, মো. নাসির উদ্দিন, নাহির, রুহল আমিন, মো. রাব্বী, কবিরুজ্জামান কবির, খোকন খলিফা, মো. রিজাউল বিশ্বাস, তোফাজ্জল হোসেন, আবেদ আলী, আল আমিন, মাহাবুব (সুটার মাহাবুব), মজিবর মাদবর, রিপন হোসেন।
এই মামলায় নাম উঠে আসা প্রায় সকলেই বর্তমান বা সাবেক রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা দলীয় কর্মী।
আদালত নালিশি দরখাস্ত গ্রহণ করে বলেন, ‘দরখাস্তকারীর নালিশি দরখাস্তে বর্ণিত অভিযোগ বিষয়ে আশুলিয়া থানায় জিডি আছে কিনা, তা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে দাখিলের জন্য অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।”
মামলার নথিপত্র সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র।
আইন বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম থাকা এ মামলাটিকে একটি “সংবেদনশীল” ও “রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ” পরিস্থিতিতে পরিণত করেছে।
তারা বলেন, তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করা অনুচিত এবং রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ তদন্ত একান্ত প্রয়োজন।
এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র আদালতে জমাকৃত লিখিত অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত। তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং আইনের চোখে সবাই নির্দোষ, যতক্ষণ না আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন