রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির নারুয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রামের আজিজ মহাজন হত্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য মামলার বাদী আ. রহমান মহাজনকে হুমকিসহ নানা ধরণের অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে আসামিদের বিরুদ্ধে।
মামলা প্রত্যাহারের স্বীকার না করায় বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ফসল কেটে বিনষ্ট করেছে আসামি পক্ষের লোকজন- এমন অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী আ. রহমান মহাজন। তবে এসকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বালিয়াকান্দি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আ. রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করে বালিয়াকান্দি থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, একটি বিচারাধীন হত্যা মামলার বাদী থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলার বাদি আ. রহমান জানান, তার ছোট ভাই আজিজ মহাজনকে ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনার পরের দিন ১৬ অক্টোবর তিনি ২৪ জনকে আসামিকে করে বালিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় সবাই গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন কারাভোগের পর এখন জামিনে রয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরই মামলার প্রধান আসামি রেজাউল মহাজনসহ আরও বেশ কয়েকজন মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন।

তিনি আরও জানান, হত্যা মামলাটি প্রত্যাহার না করায় বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রেজাউল, ইলিয়াস ও বাবলুর নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সংঘবদ্ধ হয়ে তার বাড়ি ঘিরে ফেলে। তার ছেলে রবিউল রাজবাড়ী পুলিশ সুপারকে তাৎক্ষণিক জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ হাজির হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে তারা একটি মহড়া দিয়ে তাদের বাড়ির পাশে মাঠে গিয়ে তার এবং মামলার স্বাক্ষী মনোয়ার মহাজন এবং ফরিদ শেখ ও দুলাল শেখের ব্যাপক ফসল কেটে ফেলে। এতে তাদের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মামলার স্বাক্ষী মনোয়ার মহাজন জানান, তার ক্ষেতের পেঁপে, করলা ও পুঁইশাক এবং রহমান মহাজনের প্রায় ৪৪ শতাংশ জমির লাউ ও মূলা, ফরিদ শেখের ৩৩ শতাংশ জমির করলা এবং দুলাল শেখের প্রায় ১০ শতাংশ জমির সবজি গাছ গভীর রাতে তারা কেটে ফেলেছে।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে আজিজ মহাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি রেজাউল মহাজন জানান, তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সর্ম্পূণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। বৃহস্পতিবারে মামলার বাদীর বাড়ি ঘেরাও ও রাতে ফসল কেটে ফেলার ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তবে সপ্তাহ দুয়েক আগে গ্রামে শান্তির লক্ষ্যে তারই সমাজের মাতুব্বর রইচের বাড়িতে একটি মিমাংসার জন্য বসা হয়েছিল। তবে সেখানে মামলার বাদি উপস্থিত ছিলেন না। এটি গ্রামের সবাই জানে। এখানে মামলা প্রত্যাহারের জন্য কোন চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ঘেরাওয়ের খবর পেয়ে দ্রত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান তিনি। সেখানে পুলিশ গিয়ে কাউকে পাননি।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন