পদ্মার ভাঙনে গ্রাসের পথে দৌলতপুরের গ্রামগুলো

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৫, ০৩:৩৭ পিএম
পদ্মার ভাঙনে গ্রাসের পথে দৌলতপুরের গ্রামগুলো

বন্যার পানি সরে গেলেও দৌলতপুরের মানুষের দুঃস্বপ্ন শেষ হয়নি। পানি নামতেই পদ্মা নদী আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে—দিনরাত ধরে জমি, ঘরবাড়ি, স্কুল ও মসজিদ গিলে নিচ্ছে। 

মরিচা ইউনিয়নের ভুরকা-হাটখোলা থেকে কোলদিয়াড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে নদীর অদম্য ভাঙন।

গত এক সপ্তাহে শত শত বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। 

কোথাও ধানক্ষেত, কোথাও সবজিবাগান—সবই এখন নদীর পেটে। একসময় পদ্মা ছিল জীবনের উৎস, এখন সে যেন মৃত্যুঘণ্টা বাজাচ্ছে মানুষের জীবিকায়।

স্থানীয় কৃষক সাইদুর রহমান নদীর ধারে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমাদের ভুরকাপাড়ায় কিছু জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। কিন্তু এখন ভাঙন ছড়িয়ে পড়েছে অন্যদিকে। যদি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ না দেওয়া হয়, তবে এই গ্রামই হয়তো মানচিত্রে থাকবে না।”
তার পাশে দাঁড়িয়ে সোহেল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন দেখি কারো বাড়ি ভেঙে নদীতে পড়ছে, কারো জমি হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় এখানে আমরা ধান কেটেছি, এখন শুধু স্রোতের শব্দ শুনি।”

ভাঙনের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রায়টা-মহিষকুন্ডি নদী রক্ষা বাঁধ, ভারত থেকে আসা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে।

কোলদিয়াড় মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভুরকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জুনিয়াদহ বাজার ও হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদ সবকিছুই এখন নদীর আঁচে।

স্থানীয়দের দাবি, গত বছর কিছু এলাকায় বালিভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলা হয়েছিল, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। বন্যা কমার পর নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়েছে অবশিষ্ট এলাকা।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী বলেন, “ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে। কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানান, “ভাঙনরোধে স্থায়ী ও অস্থায়ী উভয় ধরনের প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।”

কিন্তু ততদিনে নদী যদি আরও এগিয়ে আসে? ভাঙনপ্রবণ ভুরকা, কোলদিয়াড়, জুনিয়াদহ এসব গ্রামের মানুষ এখন দিন গুনছে আতঙ্কে। সন্ধ্যার পর নদীর পাড়ে গেলে শুধু জলের গর্জন আর মানুষের দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়—“এই রাতেও না জানি কার ঘর নদীতে যাবে।”

ইএইচ