চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে সবজি উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করেছে। দেশ-বিদেশে চাহিদা মেটাচ্ছে নানা জাতের উৎপাদিত সবজি। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতসহ সব ঋতুতে সবজীর ঘাটতি পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে সবজি রপ্তানিতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। তবে স্বাদে-গুণে ভরপুর শিম সবজী সর্বত্র জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লাল বর্ণের শিমে কৃষকের ভাগ্য বদলেছে।
উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র দুই থেকে তিন ইউনিয়নের মাটি শিম ফলনে উপযোগী। মাটির গুণাবলীর কারণে পৌরসভা ও মুরাদপুর ইউনিয়নে শিমের ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। শীত ও বর্ষাসহ সব ঋতুতে স্থানীয় জাতের ছোট ও লাল বর্ণের শিম পাহাড়ী টিলা ও পাদদেশে ভরে উঠেছে।
নির্দিষ্ট এলাকায় উৎপাদিত হওয়ায় বিশেষ জাতের শিমকে স্থানীয়ভাবে রুপবান শিম বলা হচ্ছে। অধিক ফলনে অধিক আয় পাওয়ায় রুপবান শিম আবাদে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। বর্ষার শেষ মুহূর্তে খালের ধারে, নদীর পাড়ে জমির আইলে রুপবান শিমের চাষ শুরু হয়।
জলবায়ুগত কারণে আবাদ উপযোগী পৌরসভা, বারৈয়ারঢালা, বাড়বকুন্ড ও কুমিরা ইউনিয়নের মাটিতে রুপবান শিমের ব্যাপক আবাদ হচ্ছে। কম খরচে অধিক আয় হওয়ায় রুপবান শিমের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তারা বলেন, “পানি জমে না এমন স্থানে দেশীয় জাতের রুপবান শিম চাষ করা যায়। কম খরচে অধিক লাভ ঘরে উঠায় রুপবান শিম চাষে আগ্রহী চাষীরা। সারাবছর আবাদযোগ্য হওয়ায় দেশ-বিদেশে শিমের চাহিদা প্রচুর। এপ্রিল মাসে বীজ বপনের তিন মাসের মধ্যে ফলন শুরু হয়ে অক্টোবর-নভেম্বরে বাজারজাত করা যায়। চাহিদা থাকায় প্রতি কেজি শিমের মূল্য ৮০-১০০ টাকা।”
উর্বর ও উঁচু মাটিতে সারাবছর রুপবান শিমের চাষাবাদ ভালো হয় বলে জানান বাড়বকুন্ডের কৃষক রিপন। বাড়বকুন্ড, ছোটদারহাট ও কুমিরা এলাকার পাহাড়ী টিলা ও উঁচু প্রায় ৫শ একর ভূমিতে রুপবান শিমের আবাদ হচ্ছে। প্রায় একশ জন কৃষকের আবাদকৃত খাওয়ার উপযোগী শিম কেজি দরে বেপারীরা কিনে নেন।
প্রতি কেজি শিম ১৫০-২০০ টাকায় ক্রয় করা হয় বলে জানান প্রাইভেট ব্যবসায়ী জুনু সওদাগর।
তিনি বলেন, “দেশ-বিদেশে রুপবান শিমের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কৃষকের কাছ থেকে কিনে নিয়ে ১০-১৫ টাকা লাভে নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ঢাকায় পাইকারের নিকট পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর পাইকাররা খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ক্রেতাদের ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি করছে।”
তৃপ্তিজনক স্বাদের তরকারিতে সব বয়সীর কাছে শিম জনপ্রিয়তায় শীর্ষে পৌঁছেছে। সরবরাহের তুলনায় অধিক চাহিদা থাকায় দামের চেয়ে স্বাদ গ্রহণ ভোক্তাদের কাছে প্রধান হয়ে উঠেছে। তাই ভোক্তাদের কাছে অন্য সবজীর তুলনায় রুপবান শিমের প্রতি কৃষকের আকর্ষণ বেশি বলে জানান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. হাবিব উল্লাহ বলেন, “লাভজনক হওয়ায় রুপবান শিম চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে। প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে রুপবান শিমের চাষাবাদ হয়। গত বছর ১৫০ মেট্রিক টন রুপবান শিমের আবাদ হয়েছে।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন