বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের নয়াকান্দা গ্রামে এক যুগ ধরে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন করিম ফকির ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানরা। বিষয়টি নজরে আসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তার সরাসরি নির্দেশে পরিবারটি এবার পাচ্ছে একটি নতুন ঘর এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হচ্ছে নির্মাণকাজ।
রোববার বিকেলে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে করিম-দম্পতির খোঁজ নিতে নয়াকান্দা গ্রামে সরেজমিনে যান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মেহেন্দিগঞ্জের সন্তান রাজিব আহসান। তিনি করিম ফকিরের ঘর পরিদর্শন করে পরিবারটির দুঃখ-কষ্টের খোঁজখবর নেন এবং পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
একঝুপড়ি ঘরেই বাস করছেন করিম ফকির, তাঁর স্ত্রী ও ছয় সন্তান। মাত্র পাঁচ শতক জায়গায় পলিথিন আর খড় দিয়ে তৈরি ঘরটি ঝড়-বৃষ্টিতে টিকিয়ে রাখা দুঃসাধ্য। বর্ষায় পানি পড়ে ভিজে যায় বিছানা, কাপড়চোপড় ও বাসনপত্র। হালকা বাতাসেই কাঁপতে থাকে ছাউনি। অসুস্থতা, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং আয় না থাকায় করিম এখন পরিবার নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ছোট শিশুটিও কয়েকদিন ধরে অসুস্থ; টাকার অভাবে ডাক্তার দেখাতে পারেননি তাঁরা।
প্রতিবেশী রিয়াজ হোসেন জানান, অর্থের অভাবে তাদের প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হয়। বাজার করারও সামর্থ্য নেই, চিকিৎসাও করাতে পারে না। তাই তারেক রহমান ও রাজিব আহসানের এই সহযোগিতা তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন আকন জানান, স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে বিষয়টি রাজিব আহসানকে জানানো হলে তিনি করিম-দম্পতির দুর্দশার কথা তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরেন। এরপরই ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত আসে।
ভাষানচর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিল্পী বেগম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার চেষ্টা করব। আশা করি, দ্রুত পরিবারটি মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গিয়াস উদ্দিন দিপেন বলেন, করিম ফকিরের ঘরে গিয়ে রাজিব আহসান নিজে পরিস্থিতি দেখেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন একটি নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার।
করিম ফকির বলেন, আমি গরিব মানুষ, কখনো একবেলা খাই, কখনো খাই না। আজ আমাদের খোঁজ নিতে নেতারা এসেছেন, এটা আমাদের জীবনে বড় প্রাপ্তি। আমি তারেক রহমান ও রাজিব আহসানের কাছে কৃতজ্ঞ।
রাজিব আহসান বলেন, তারেক রহমান সব সময় অসহায়, তৃণমূলের মানুষদের পাশে দাঁড়াতে আমাদের নির্দেশ দেন। এই পরিবারটিকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা তাঁর সেই নির্দেশ পালন করছি।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন