ভোগান্তিতে তিন ট্রেনের যাত্রী

খোকসায় ঝুঁকিপূর্ণ রেল ক্রসিংয়ে গেট দাবিতে অবরোধ

খোকসা (পাবনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২৫, ০৭:০৭ পিএম
খোকসায় ঝুঁকিপূর্ণ রেল ক্রসিংয়ে গেট দাবিতে অবরোধ

পোড়াদহ-রাজবাড়ী রেল রুটের খোকসায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ রেল ক্রসিংয়ে গেট ও গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে স্থানীয়রা রেল লাইন অবরোধ করে। এ সময় তিনটি ট্রেনের প্রায় এক হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের ধুসুন্ড গ্রামে রেল ক্রসিং লাল কাপড় ও গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন গ্রামবাসী। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা পোড়াদহগামী সাটেল ট্রেন আটকা পড়ে। 

একই সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া গামী মধুমতি এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহী গামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনও খোকসা ও পাংশা স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিয়ে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়।

অবরোধের সময় আটকা পড়া সাটেল ট্রেনের পরিচালক আবু নাইম ও চালক সুরুজ আলী বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তারা কর্মসূচি চালিয়ে যান।

প্রায় এক ঘণ্টা ৩৫ মিনিট পরে খোকসা রেল স্টেশনের মাষ্টার সুজন সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে আটকা পড়া ট্রেনটি চলতে দেন। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনগুলোও গন্তব্যে পৌঁছায়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঈশ্বরদী থেকে ভবানীগঞ্জ পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক ধুসুন্ডা গ্রামে পোড়াদহ-রাজবাড়ী রেল লাইন ক্রস করেছে। গেট না থাকায় এটি দুর্ঘটনাপ্রবণ রেল ক্রসিংয়ে পরিণত হয়েছে। গত এক মাসে এই ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী সোনাই মোল্লা ও অপর এক অজ্ঞাত পরিচয়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। 

গত পাঁচ বছরে এখানে বিভিন্ন যানবাহনের সঙ্গে প্রায় ১৫টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অনেক যাত্রী পঙ্গুত্বের সম্মুখীন হয়েছেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সোহাগী নামের এক নারী বলেন, "মৃত্যুর পর আশেপাশের তিন-চারটি গ্রামের মানুষ আতঙ্কে আছেন। শিশুরা রেল পার হয়ে স্কুলে যেতে চায় না। আমরা দ্রুত এই ক্রসিংয়ে গেট চাই।"

নিহত সোনাই মোল্লার ভাই বাবু মোল্লা বলেন, "ভাইয়ের মৃত্যুতে পাঁচ বছরের শিশু এতিম হয়েছে। তার স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তান বাবাকে দেখতে পায়নি। এমন দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে তার জন্য আমরা গেট ও একজন গেটম্যানের দাবি করছি।"

খোকসা রেল স্টেশনের মাষ্টার সুজন সরকার জানান, "স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে। তারা লিখিত স্মারকলিপি বা আবেদন দিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে, পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

পোড়াদহ-রাজবাড়ী রেল রুটের জুনিয়র ট্রাফিক ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, "এটি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান। এলাকাবাসী লিখিতভাবে আবেদন করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রেন আটকে যাত্রায় ভোগান্তি হয়েছে।"

ইএইচ